Saturday, August 3, 2013

ভাবো বন্ধু... আর বন্ধুতা...

মোমিন মেহেদী

( প্রিয় কবি কমল মমিন, মোশতাক আল মেহেদী, অরুপ তালুকদার, সুপা সাদিয়া এবং আমার নিরন্তর বন্ধু শান্তা ফারজানাকে বন্ধু দিবস উপলক্ষে নিবেদিত )

ভালোবাসা ভালো লাগা অথবা বিনম্র আহ্লাদ
মনে জন্ম নেয়া মানেই বন্ধুতা
আমি চাই তোমার কাছে তাই
পৃথিবীতে বন্ধুতার বাইরে আর একটা গভীরতর সম্পর্কও নাই
বিশ্বাস না হলে প্রমাণ তুলে দিচ্ছি













যেমন ধরো স্রস্টা। তিনি নিজেকে কখনোই বন্ধুর বাইরে রাখেন নি।
তিনি পরম মমতায় এগিয়ে আসেন নিরন্তর
কেননা, তিনি নিজেকে বন্ধু মনে করেন।
আর বন্ধুর প্রতি বন্ধুর ভালোবাসার নিদর্শন হলো-
তাকে স্মরণ করা। আমি তোমাকে ভালোবাসি’‘ বলা...
অথবা মনে মনে নিরব ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ তৈরি করা
যেখানে নিজস্ব একটা ভালোবাসার রুম থাকবে
সেখানে কেবলই ভালোবাসার সাতকাহন হবে
ভালোবাসার সাতকাহন....
এরপরে বাবা অথবা মা; যার কথাই বলি না কেন
তারা দু’জনও দারুন বন্ধু। প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, শৈশবের স্নেহ
কৈশোরের আদর আর রাতদিন যত্ন-আত্মির কথা।
ভাই অথবা বোন; তারাও কিন্তু বন্ধূ। আর এই বন্ধুদেরকে যতটা ভালোবাসা
সম্মান দেয়া যায়; ততটুকুই পাওয়া যায়।
যদিও বন্ধুত্বে কোন পাওয়া বা চাওয়ার জায়গা থাকতে নেই
কিন্তু তবুও একটু-আধটুতো সবজায়গাতেই থাকে; তাই ভালোবাসা
আর বন্ধুত্বে কোন দূরত্ব রাখতে নেই।
এখন আসি সবচেয়ে আসল স্খানে
এখানে নতুন করে বলার কিছু না থাকলেও স্মরণ করিয়ে দেয়ার বিষয়টা
খুবই প্রয়োজনীয়। লাইলী-মজনু, সিরি-ফরহাদ অথবা যদি চন্ডিদাস-রজকিনীর
কথা বলি; তারাও বন্ধু ছিলেন। আর বন্ধু ছিলেন বলেই নিরব ভালোবাসায়
আমরন নিবেদিত ছিলেন। বছরের পর বছর চলে যায়; কিন্তু প্রকৃত বন্ধু তার
বন্ধুত্বের প্রতি থাকে অবিচল। কেননা, বন্ধুত্বে কখনো দূরত্ব তৈরি হয় না।
যা হয়; তা বন্ধুত্বই নয়।
প্রকৃত বন্ধু বহুদুরে থেকেও কাছে; যেমন চাঁদবন্ধু কোটি কোটি শতবর্ষ কিলোমিটার দূরে
থেকেও কত আপন...
যেমন সূর্য জীবনের কোন একদিন তাঁর ভালোবাসা না আসলে ভোর হয় না।
পৃথিবী  দেখা যায় না।
বন্ধুতোও কখনো দূরে সরে যায় না।
বন্ধুত্ব তৈরি হয় জন্ম-জন্মান্তরের জন্য নিবেদিত থাকার প্রত্যয়ে
অতএব, বন্ধুত্বে কোন খাদ রাখার সুযোগ নেই; নেই ফাঁকি দেবার বা নেবারও কোন সুযোগ...
আর তাই বলছি-
বন্ধু একা কখনো পথ হেঁটো না। পথ খুঁজে পাবে না। কেননা, বন্ধুহীন পথ কখনো ফুরোয় না।
বরং বাড়তেই থাকে বাড়তেই থাকে। যেমন নদী কেবল বয়ে যায় আর বয়ে যায় একা একা...
বন্ধু, এসো দু’জনে নিবেদিত হই বন্ধুত্বের জন্য।
নিবেদিত হই ভালোবাসার জন্য। নিবেদিত হই সততার জন্য।
নিবেদিত হই দেশ-মাটি আর মানুষের জন্য....
দেশ আমাদের বন্ধু
দেশের মাটি আমাদের বন্ধু
দেশের মানুষ আমাদের বন্ধু...
তুমি যেমন; ঠিক তেমন করেই ভাবো বন্ধু... আর বন্ধুতা...

Wednesday, April 13, 2011

বৈশাখের ছড়া

ভাসতে থাকে হাসতে থাকে
মোমিন মেহেদী

বোশেখ মানেই মুগ্ধ করা রাতের সাথে দিন
ইচ্ছে হলেই সঙ সাজানো স্বপ্নটা রঙিন
রঙিন হাসি
রঙিন বাঁশি
রঙিন শাড়ির য়ল
মুগ্ধ মায়া
শুদ্ধ ছায়া
খুশি অর্নগল

খুশির জোয়ার বইয়ে দিতে বোশেখ মেয়ে আসে
এই নামেরই ছন্দ গানে সব বাঙালি ভাসে
ভাসতে থাকে
হাসতে থাকে
এমনি মায়া
এমনি ছায়া
গড়ে খুশির কূল।

কূল গড়ে যায় নদীর মতো অবিরত তাই
বোশেক এমন বাংলাদেশেই অন্য কোথায় নাই।



আজিকের বৈশাখে কাব্যজ¯্রােত
মোমিন মেহেদী
ছন্দে ছন্দে পদে পদে অঞ্চলের আবর্ত আঘাতে
উড়ে হোক ক্ষয়
ধূলিসম তৃণসম পুরাতন বৎসরের
যত নিস্ফল সঞ্চয়।
একশ দশ বছরেরও আগে কবি-সার্বভৌম কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বাঙালির নববর্ষকে আহবান জানাতে গিয়ে যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন এতকাল পরে এসেও একই কামনায় বাঙালি আজ নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে। নিরবধিকালের অন্তহীন প্রবাহে মিশে গেল শাশ্বত বাংলা ও বাঙালির আরো একটি বছর। চলে গেল আরেকটি বঙ্গাব্দ। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমাদের জাতীয় কবি নজরুলের বর্ষবরণের বাণী উচ্চারিত হোক
তোরা সব জয়ধ্বনী কর
তোরা সব জয়ধ্বনী কর
ঐ নূতনের কেতন উড়ে কালবৈশাখীর ঝড়।
দামাল চাষার হালের লাঙল কর্ষকলায় উসিত জোয়ান জমিন অদ্যাবধি পরণকথা। আমার মাঠের দূর্বাঘাসের চিকণ সবুজ দিগ্বলয়ের বনের রেখা উড়কি ধানের কাঞ্চাছড়া চক্ষুকেন্দ্রে অমল বর্ণ হাজার বছর। মৎস্যগন্ধা ধান্যগন্ধা নুনঝরানো আমার শ্যামল দেহের ভেতর কেমন আগুন তপ্ত লালের। লাল ছুটে যায় কামানগোলা তীরের ফলা চোখ ধাঁধানো ঢাল তলোয়ার লাল ছিটোনো শহীদ মিনার অভ্রভেদী স্মৃতিস্তম্ভ। এখন আমার আকাশ জুড়ে নিজস্ব এক বনবিহঙ্গ আপন চালে উড়তে থাকে সবুজ পাখায়। কেবল তাহার বক্ষ থেকে ঝরতে থাকে একাত্তরের শব্দগুলো ফোঁটা ফোঁটা। কবি ঝর্না রহমানের এমন কবিতার মত করেই বৈশাখ এগিয়ে চলে আলোর সাইনবোর্ড হাতে। এই সাইন বোর্ডে লেখা আছে বাংলাদেশের ইতিহাসবৃত্তান্ত। কবিতায় বৈশাখ এসে উঁকি দিয়েছে নিজেরা স্বভাবকে সাথী করে। এই স্বভাবের আওতায় রয়েছে স্বপ্নজ সময় আর ভালোলাগার কথা। কবিতার সম্্রাট শামসুর রাহমান থেকে শুরু করে বর্তমানের কাব্যজ পথিক কবি কচি রেজা পর্যন্ত প্রায় সবার কবিতাতেই উঠে এসেছে বৈশাখের আনন্দ-উল্লাস। নন্দিত সময়ের সাজগোজ নিয়ে আয়নায় মুখ দেখে খইফোটা আলো। এই আলোর হাত ধরে এগিয়ে এসেছে কবিতা, এগিয়ে এসেছে বৈশাখী আমন্ত্রণ।
কবি ওমর আলীর কবিতায় বৈশাখী আনন্দ উঠে এসেছে এভাবে-
আগন্তুক পাখিদের অচির কন্ঠের সুরভরা
সোনালী রৌদ্রের দিন নাতিদীর্ঘ, দ্রু শেষ হয়,
সুশান্ত আকাশময় নক্ষত্রের মায়াবী প্রহরায়
বর্ধিষ্ঞু ঝরা পাতায় মেশে দিনরাত্রির সময়।
আমাদের নতুন আলোয় ভালো এগিয়ে আসবে। সেই প্রত্যয়ের বীজ বোনে বয়ে চলা ¯্রােত। এই ¯্রােতের সাথে হাত মিলিয়েছি আমরা। আমাদেও বর্তমান। প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে মানুষ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে আসছে। আজও বিশ্বের বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর রীতি। প্রত্যেক জাতিই নানা নামে রকমারী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করে বর্ষবরণের উৎসব। ইংরেজ-ফরাসি-জার্মানি-মার্কিনিদের যেমন রয়েছে ‘নিউইয়ার্স ডে’ তেমনি ইরানি-পার্সিদের মধ্যে রয়েছে নওরোজ উৎসব। বাংলা এবং বাঙালি তার ব্যতিক্রম নয়। প্রত্যেক দেশের সুপ্রাচীন বা ধর্মীয় উৎসবে সে দেশ ও জনগণের ইতিহাস-ঐতিহ্য কৃষ্টির পরিচয়বাহী নানা অনুষঙ্গ থাকে। বাংলা নববর্ষও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারকে বহন করে চলেছে। বাস্তবিক পক্ষে বাংলা সাল বাঙালির মহৎ উত্তরাধিকার। এ নববর্ষের উৎসব সর্বজনীন। নতুন বছরের প্রথম দিনের এই উৎসবে রয়েছে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-চাকমা-মার্মা-ত্রিপুরিসহ বাংলাদেশের সকলেরই অভিন্ন অধিকার। ধর্ম-নিরপেক্ষতা ও সর্বজনীনতাই এই উৎসবের চরিত্র। বৈশাখ মানেই চির সুন্দর ঋতু। আর সেই সুন্দরের হাত ধরে এগিয়ে আসে সজ্জিত বৈশাখ। এই সজ্জিত একটি দিন ফিরে ফিরে আসে সাতকাহনের গল্প নিয়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ঔপনিবেশিক পাকিস্তানি শাসনামলে শাসকগোষ্ঠী এবং তারও আগে সাম্প্রদায়িক শক্তি বাঙালির এদেশের মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করেছিল নতুন বছরকে বরণ করার উৎসবটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব, এতে অন্য ধর্মাবলম্বীদের কোন অধিকার নেই। তাদের অপপ্রচারে এদেশের মানুষ খানিকটা বিভ্রান্ত হলেও সেটা কখনও স্থায়ী হয়নি। তাদের এই অপপ্রচার বাঙালির সমাজ ও সংস্কৃতির উপর আক্রমণ তা বুঝতে এদেশের মানুষের দেরি লাগেনি। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক বাঙালির মুখের ভাষার উপর আক্রমণ যেমন বুকের রক্ত দিয়ে নস্যাৎ করতে এদেশের মানুষের দেরি লাগেনি তেমনি নববর্ষের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখের উপর সুকৌশল হামলা এদেশের মানুষ রুখতে সক্ষম হয়েছিল। আর কবিতা যুগিয়েছে মনের শক্তি। কবি যুগিয়েছে জীবনের স্বাদময় কবিতা। এই কবিতার সারিবদ্ধ স্বপ্ন জমাটবাঁধে প্রতিনিয়ত আলোর সাথে। আর তাই তুলে ধরা যায় শামসুর রাহমানের এই কবিতাটিও বৈশাখী আনন্দের কথা-
তোমার একটা কিছু হলে
আমরা বসবো পথে, এই সভেংচি ভাবনাকে
তুমি মোটেও আনো না আমলে।
বিভিন্ন আকৃতির মাটির পটারিতে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রঙের ফুল এবং ইনডোর প্লান্টস। শুধু মাটির পটারিতে নয়, গাছের শিকড় দিয়ে নান্দনিকভাবে তৈরি ফুলদানিতে শোভা পাচ্ছে পানিতে রাখা মানিপ্লান্ট। যেকোনো নতুনকেই আমরা ফুল দিয়ে বরণ করি, আর সবুজ আমাদের মনকে ভরিয়ে ফেলে প্রশান্তি। পুরোনো সব জীর্ণতা বিদায় জানিয়ে ভোরের আলোয় নতুন প্রত্যয় নিয়ে সবাই বরণ করে নতুন বছরটি। ভোরের আলোর প্রতীকরূপে মামের আলোয় ঘরে আসে মঙ্গল বারতা। বৈশাখের দিন শুধু বসার ঘরেই নয়, খাবার টেবিলেও থাকা চাই দেশীয় আমেজ। সে ক্ষেত্রে খাবার পরিবেশনে মাটির বাসনের বিকল্প কিছু নেই। মাটির থালা, বাটি, গ্লাস, জগ ইত্যাদি দিয়ে খাবার পরিবেশনের সুবিধামতো করে সাজিয়ে নেওয়া হয়েছে টেবিলটি। টেবিলের মাঝখানে মাটির পাত্রে রাখা তাজা ফুল। বিকেলবেলায় হালকা খাবার পরিবেশনের সঙ্গে খাবার টেবিলের সজ্জাটা হতে পারে অন্য রকম। সে ক্ষেত্রে আদিবাসী থিম ধরে সাজাতে পারেন খাবার টেবিলটি। টেবিলক্লথ হিসেবে বিছিয়ে দিন নীল-কালো রঙের সমন্বয়ের থামি। এর ওপরে রানার হিসেবে রাখা রেশমি সুতার আদিবাসীদের হাতে বোনা ওড়না। আদিবাসীদের তৈরি বাসনকোসনে বিকেলের খই, মুড়ি, বাতাসা, নিমকিসহ দেশীয় মুখরোচক খাবার। পানি রাখার জন্য লাউয়ের তৈরি বিশেষ ডিজাইনের জগ ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া নারিকেলের মালা দিয়ে তৈরি বাঁশের ট্রেতে একটি মালায় তাজা ফুল, অপর মালায় মোমের ছোট ছোট শোপিস। গোধূলির মায়াবি আলোয় জমে উঠা পয়লা বৈশাখের বিকেল। পয়লা বৈশাখের এই দিনটিতে সব কিছুতেই আমরা দেশীয় জিনিসের ব্যবহার করে থাকি। নতুন করে কিছু কিনে নয়, বরং ঘরের মধ্যেই থাকা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় লোকজ জিনিসকে একটু এদিক-সেদিক করে গুছিয়ে রেখে পয়লা বৈশাখের এই দিনে ঘরে আনা যায় এক শৈল্পিকতার ছোঁয়া। সেই শৈল্পিকতার পরশে বছরের প্রথম দিনটিতেই সবার মন ভরে উঠবে সেই বাঙালিয়ানার ছোঁয়ায়, যা নিয়ে যাবে আমাদের সেই হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতির কাছাকাছি। কবিতা মানেই না বলা যত মনের শৈল্পিক কথা। এই কথার সূত্র ধরেই কবি রফিক আজাদের কবিতায় বৈশাখী আনন্দ উঠে এসেছে কিছুটা আনন্দ, কিছুটা স্মৃতি আর স্মৃতিকাতরতা উঠে এসেছে-
বাঙালির দীর্ঘ ইতিহাসে সম্মৃদ্ধির সূত্রে এই
গ্রথিত হয়েছে গ্রন্থ; তোমাকে ঘিরে চলে জানি
অন্বেষণ-আধুনিক বাঙালির অনিষ্ট মনন
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থেকেও ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখ বর্ষবরনের অনুষ্ঠানে জাতি -ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে এদেশের শত শত মানুষ সমবেত হয়ে উৎসব উদযাপনের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক শাসক গোষ্ঠী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি জানিয়ে দিয়েছিল পয়লা বৈশাখ নুতন বছরের প্রথম দিন সর্বকালের বাঙালির প্রাণের উৎসব। তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বর্ষবরণ উৎসব পালন করলেও বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে কিন্তু বর্ষবরণ উৎসবের গুরুত্ব ঐতিহাসিক। প্রাকৃতিক নিয়মেই নবীন প্রাচীনের স্থান নেয়। পুরানো বছর চলে যায়। কিন্তু রেখে যায় তার পদচিহ্ন ব্যক্তি-সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন। এই পদচিহ্নে থাকে ব্যর্থতা ও সফলতার স্বাক্ষর। ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সফলতায় উত্তরণের দীক্ষাগ্রহণ করা হয় নতুন বছরে। বিদায়ী বছরে আমাদের রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক সফলতার স্বাক্ষর থাকলেও ব্যর্থতার নিদর্শন ও বড় কম নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম তো ছিলই তার চেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে দেশবাসীকে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির অভাবে। হত্যা-রাহাজানী-ধর্ষণ-ছিনতাই-সন্ত্রাস ইত্যাদি ভয়ঙ্কর সামাজিক অপরাধের প্রবণতা, অপরাধীদের তান্ডব নৃত্য নিরীহ মানুষকে আতংকিত করে রেখেছিল। পুরানো বছর বিদায় নেয়ার আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমলেও আজও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির অভাবে জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও তেমন কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু তারপরও মানুষ অপেক্ষা করে আছে সুদিন আসবে। হাজার বছরের বাঙালির জীবনে দুর্দিন বড় কম আসেনি। কিন্তু মনুষ্যত্বের সাধনা ও মানবতার আহবানের মধ্য দিয়ে বাঙালি যুগে যুগে সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করেছে। আসলে আবহমান বাংলা ও বাঙালির সাধনা মনুষ্যত্বের সাধনা। এ সাধনার মৌলবাণী অসাম্প্রদায়িকতা। আলোর রঙধনু নিয়ে এগিয়ে আসে বৈশাখ। এই আলোকিত আলোর বৈশাখের সাথে সাথে নতুন বছরের প্রথম দিনের আনন্দে আমাদের সংকল্প হোক-মনুষত্ব সাধনার। প্রত্যাশারা দল বেঁধে আসে সুন্দরের সাথে সাথে। আর একারনেই বৈশাখ হয় আরো সুন্দর। ঠিক কবি ফারুক মাহমুদের কবিতার মত। যেখানে তিনি লিখেছেন,
পর্বত পতঙ্গ পাখি ছায়াঝরা সবুজের ঘ্রাণ
হাওয়ার বলস্নম যেন ছুটে আসা তুমুল তুফান
সমুদ্রের ঢেউগুলো অবিশ্রান্ত জলের আলাপ
সূর্যের প্রসন্ন মুখ, বৃষ্টিথ ও-যে তুলে রাখে ঝাঁপ
ভরা নদী মরা নদী হাটখোলা জ্যোৎস্নাকপাট
সবুজের ছায়াজ্যোতি স্থানে স্থানে হয়েছে জমাট
পৃথিবীর সব জাতিই বেশ বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন বছরের প্রথম দিনটি উদযাপন করে। এই উদযাপন বিচিত্র ও বহুরূপী। বাঙালি জাতিও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। আজকাল নববর্ষ যে শুধু বাংলাদেশেই পালন করা হয় তা নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীরাও নববর্ষ পালন করেন। এ অঞ্চলে নববর্ষ পালনের মূলে আছে কৃষি। আগে বছর গণনার ভিত্তি ছিল চন্দ্রকলা। পরে ফসল বোনা ও কাটার বা কৃষির কারণে চন্দ্র ও সূর্য বা চান্দ্র সৌরবর্ষভিত্তিক গণনা শুরু হয়। নববর্ষের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সূচনা হয় নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখে বাংলা সনের প্রবর্তনের সময় থেকেই। অর্থাৎ ৯৬৩ হিজরি সনের ২ রবিউস সানি শুক্রবার মোতাবেক ১৫৫৬ সন প্রবর্তনের পূর্বেও 'বঙ্গদেশে' 'লক্ষ্মণ সন' প্রচলিত ছিল। স্বয়ং আকবরনামায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এ দেশে সম্ভবত 'আমানি' নববর্ষের আদিম অনুষ্ঠান। আমানি অর্থাৎ আমপানীয়, আমাদের নববর্ষ পালনের আদি ঐতিহ্যের পরিচায়ক। সভ্যতার সে পর্যায়ে এ দেশের মানুষ আমানি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষ পালনের প্রস্তুতি নিত। সে ঐতিহ্য এখন রূপান্তরিত পান্তাভাত খাওয়ায়। চৈত্রসংক্রান্তির দিবাগত রাতে কৃষক গৃহিণীরা হাঁড়িতে অল্প পরিমাণ অসিদ্ধ বা রান্না না করা চাল রেখে দিত। সে চাল সারারাত পানিতে ভিজিয়ে ওই হাঁড়ির পানির মধ্যে একটি কচি আমপাতাও রেখে দিত। পহেলা বৈশাখে সূর্য ওঠার আগে সবাই ঘুম থেকে উঠে সেই ভেজা চাল খেত আর গৃহিণী হাঁড়ির মধ্যে রেখে দেওয়া আমপাতা পানিতে ভিজিয়ে সবার গায়ে সে পানি ছিটিয়ে দিত। লোকবিশ্বাস যে, এতে সারাবছর ঘরে শান্তি বজায় থাকবে। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠান বাংলা নববর্ষ। একেবারে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শহরের উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সবাই বেশ আন্তরিকভাবে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে নববর্ষ পালন করে। মুসলিম অধ্যুষিত একটি ভূখণ্ডের উৎসব সত্ত্বেও নববর্ষ বিষাদময় নয়। বরং তা কখনও কখনও আন্দোলনের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করেছে। পরাধীন বাংলাদেশে অনেক বিদ্রোহ দানা বেঁধেছে বৈশাখী ছাতার ছায়াতলে। এই ছায়াতলে থেকেই কবি নূর কামরুন নাহার লিখেছেন,
বৃক্ষ, পতঙ্গ আর পাখির মতো
এই সত্য জন্ম আমার
অবিকল মানুষের মতো।

জন্মের অধিকারে হেঁটেছি আমি
রৌদ্র-অন্ধকার আর তামবর্ণ দিনের আলোয়
রহস্যের ধূপছায়া সন্ধ্যা আর বর্ণ উৎসবে
আগুনের ফুলকিতে আর জরাছন্ন কালে পিঠে
অচেনা কায়া আর ছায়ার ভেতর
ক্লেদ-কান্তি আর স্বেদের কনায়
দেশে প্রতি বছর তিন শতাধিক বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ছোট ছোট মেলা হয়তো আরও আছে। সব তথ্য আমাদের জানা নেই। এসব মেলা এক দিন থেকে শুরু করে এক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মেলায় সব বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মেলার প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের কামার-কুমারদের তৈরি বিভিন্ন লোকজ শিল্পসামগ্রী। মাটির তৈরি কত রকমের খেলনা যে মেলায় ওঠে তার হিসাব নেই। ব্রিটিশ গবেষক এইচজি হটন এ রকম এক মেলা দেখে আফসোস করেছিলেন যে, এ দেশের মেলায় যত ধরনের লোকজ সামগ্রী ওঠে তা দিয়ে একটা ছোটখাটো জাদুঘরই হয়ে যায়। এই জাদুঘর আর কোথাও না থাকলেও আছে কবির মনে। বিশেষ করে দেশের তরুনতম কবির কবিতায় উঠে আসে মনের আকুলতা। সময়ের আয়নায় একজন নিতান্তই তরুর লেখক এমরান হাসান। যার লেখায় উঠে এসেছে সময়ের আবেদন এভাবে-
যে কোন রোদ্দুরে লুকোয় মার্বেল-দুপুর!
জ্যামিতিক গান ভুলে যে কোন আশ্রয়ে ডুব-সাঁতার
যেমন স্মৃতির কাছাকাছি ডুবে যাওয়া সন্ধ্যা
আর সমগ্রে চুপচাপ ধরে রাখা মুহূর্তÑ খসড়া
বোধের তৃতীয় ডানায় ফিরে দ্যাখা রূপকথা মেঘ
অভিজ্ঞ বাতাসে ওঠে শাদাটে পাখির ডাক।
কবিতার পথে হাটা পথিকের সংখ্যা অনেক হলেও এ পথে টিকে থাকা পথিকের সংখ্যা নগণ্য। তাদের চলমান ধারায় এখনো সচল। বৈশাখের কবিতায়ও সচল থেকেছেন কবি সৈয়দ শামসুল হক, কাজী রোজী, আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, রেজাউদ্দিন স্টালিন, হাসান হাফিজ, জরিনা আখতার, নাসির আহমেদ, দীপংকর গৌতম, জামিল আখতার বীনু, টোকন ঠাকুর, জগলুল হায়দার, সেলিনা শিরিন শিকদার, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, বদরুল হায়দার, মনসুর হেলাল, কচি রেজা, সৈকত হাবিব, হাসান মাহমুদ, ফারুক আফিনদী, মারুফ ওয়েসিস, মোমিন মেহেদী, অনন্ত সুজন, আফরোজা সোমা, নীহার মোশারফ, জাহের ওয়াসিম, রুদ্র আরিফ,শান্তা ফারজানা প্রমুখের নাম। আমাদের দেশে কবিতা নিয়ে চলছে ব্যবসা। এই ব্যবসায় স্বঘোষিত কবিদেরকে বয়কট করার দিন হোক পহেলা বৈশাখ। এই বৈশাখের অঙ্গীকার হোক মানবতা রক্ষার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারের। আমাদের সকলের কণ্ঠে সম্মিলিতভাবে ধ্বনিত হোক মুছে যাক গ্লানি, মুছে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শূচি হোক ধরা।’ আমাদের দেশে নববর্ষে অন্যান্য উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি হালখাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বৈশাখ যেহেতু বছরের প্রথম মাস সেহেতু বর্ষবরণের যাবতীয় আয়োজন বৈশাখকে ঘিরে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের জীবনে বৈশাখের প্রভাব তুমুল। নববর্ষে ঐতিহ্যগতভাবে বৈশাখী মেলা, খেলাধুলা, গঙ্গায় স্নান, পুণ্যাহ, হালখাতা, ঘোড়দৌড়, ভূমি কর্ষণ, রকমারি স্বাদের খাবার, নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ, নৃত্য, যাত্রা ইত্যাদির আয়োজন হয়। প্রসঙ্গত, শামসুজ্জামান খান উলেল্গখ করেন, 'বাংলা সন' প্রবর্তিত হওয়ার পর বাঙালির প্রাচীন উৎসব অনুষ্ঠান, মেলা, লৌকিক খেলাধুলা, হালখাতা, পুণ্যাহ প্রভৃতি এ সনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। অর্থাৎ বাঙালির লোকজীবনের সাংস্কৃতিক ধারাকে বাংলা সন বিচ্ছিন্ন না করে বরং জোরদার করেছে। সেই যে সুন্দরের গল্প; এই গল্পটার মূল বিষয় পহেলা বৈশাখ। এই পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ ও উৎসব বৈশাখী মেলা। এইদিন সারাদেশের আনাচে-কানাচে অসংখ্য মেলা হয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় কী নেই সেখানে? কাস্তে, খন্তা, দা, বঁটি, পোড়ামাটির খেলনা, শোলার খেলনা, টুমটুমি, শখের হাঁড়ি, আসবাবপত্র, নকশি কাঁথা, একতারা, কাগজের ফুল, খই, মুড়কি, ঢ্যাপের নাড়ূ, পিঠা, ছঁচা, মিষ্টি, গজা, খাজা, নকুল দানা, মোরব্বা ইত্যাদি। শিশুদের প্রধান আকর্ষণ কাঠ ও মাটির তৈরি বিভিন্ন খেলনা। এসব খেলনা না কিনে ওরা বাড়ি ফিরে না। এই খেলনার মধ্য দিয়ে শিশুদের বৈশাখ ফিরে ফিরে আসে। সেই বৈশাখের রাস্তা দিয়ে ফিরে আসে হলুদ শাড়ি আর রঙ বেরঙের আনন্দ। এই আনন্দকে সাথী করে আমরা এগিয়ে যাব কবিতার হাত ধরে...


বিধিমালার বাইরে দাঁড়ানোর দুখবাহিনী
মোমিন মেহেদী
২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। র‌্যাব প্রতিষ্ঠাকালে তৈরী করা হয়নি নিজস্ব কোন গঠনতন্ত্র। আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অ্যাক্ট অনুযায়ী র্যাব পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। র‌্যাবের সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পার্থক্য করতে এই অ্যাক্টের দুইটি ধারা পরিবর্তন করা হয়। পরিবর্তিত ধারাগুলো মামলা তদন্ত এবং অপরাধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সংক্রান্ত। এই দুইটি ধারা পরিবর্তন করে র‌্যাবকে বিশেষ ক্ষমতা দেয়া হয়। অ্যাক্ট থাকলেও বিধিমালা না থাকায় প্রায়ই আদালতে ঝামেলায় পড়তে হয় বলে র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান। তাদের মতে র‌্যাবের জন্য বিধিমালা জরুরি। বিধিমালা ছাড়াই চলছে র‌্যাব। কারন এই বাহিনীর কোন বিশেষ বিধিমালা নেই, নেই আইনের প্রতি দায়বদ্ধতাও। আর তাই র‌্যাবের নির্মম যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার প্রান। কখনো রাজনৈতিক স্বার্থ, কখনো দলীয় স্বার্থ আবার কখনো ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত সরকারের মদদপুষ্ট এই বাহিনী। র‌্যাব সৃষ্টির সময় প্রতিষ্ঠাতাদের কয়েকজন প্রকাশ্যে তথ্য প্রচার করেন, আমেরিকার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আদলে র‌্যাব গঠিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই র‌্যাবের অবস্থা আনসার বাহিনীর মত। রাস্তাঘাটে যানবাহন চেকিং ও গাঁজার পুরিয়া উদ্ধার এবং ছিনতাইকারী দমনসহ ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে র‌্যাব। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। যদিও সন্ত্রাস দমনে র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ নেই। তারপরও সন্ত্রাস দমনের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ক্রসফায়ারের কারণে র‌্যাবের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভিন্ন মহল উদ্বিগ্ন। নির্মমতার উদাহরন তৈরি করা র‌্যাব বাহিনীর কোন সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে শুধু বিভাগীয় শাস্তি দিয়েই টানা হয় ইতি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব। দেশের মানুষ হারাচ্ছে নির্দোষ নাগরিক আর মানুষ হারাচ্ছে প্রিয় স্বজনদেরকে। অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে র‌্যাব চলছে নিজের গতিতে কিন্তু প্রতিনিয়ত লোকসানের অংক কষছে বাংলাদেশ। এর মূলে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত আর স্বার্থন্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। তাদের পরিকল্পনাতেই গোঁজামিল দিয়ে তড়িঘড়ি করে এলিট ফোর্স র‌্যাবকে সন্ত্রাস দমনে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়। সেই যে নেমেছে আজো নেমেই আছে সন্ত্রাসী হত্যার নামে সাধারন মানুষের জীবন যাত্রা বন্ধের যাত্রাপথে। নির্দিষ্ট কোন বিধিমালা ছাড়াই চলছে দেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব প্রতিষ্ঠার সাত বছর শেষ হয়ে আট বছরে পা রেখেছে। আজ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোন বিধিমালা তৈরী করতে ব্যর্থ হয়েছে সংশিস্নষ্ট প্রশাসন। বিধিমালা না থাকায় এলিট ফোর্স এখন কর্মকান্ডে কমন ফোর্সে পরিণত হয়েছে। র‌্যাব গঠন করার পিছনে ছিল নানা কাহিনী। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমনের কথা বলে একটি স্বার্থন্বেষী মহলের মোটা অংকের টাকায় আর তাদের দেয়া পরিকল্পনা অনুসারে সৃষ্টি করা হয় র‌্যাব। ওইসব রাষ্ট্র পরিকল্পিত মেরুকরণ অনুযায়ী র‌্যাবের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়। অ্যাক্ট অনুযায়ী র‌্যাবের যে দায়িত্ব তা হলো, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব, অপরাধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গোয়েন্দাগিরি, অননুমোদিত অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার ও সরকারের নির্দেশনা পালন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোন অপরাধের তদন্ত করা, অস্ত্রধারী অপরাধ চক্রকে গ্রেফতার করা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করা ও বিভিন্ন সময়ে সরকারের প্রদত্ত দায়িত্বসমূহ পালন করা। দোষী প্রমাণিত হলে র‌্যাব সদস্যদের শুধু বিভাগীয় শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাও একটি গেজেটের মাধ্যমে এইটুকু ব্যবস্থা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা না থাকায় র‌্যাবের মত একটি বাহিনী যেভাবে চলা দরকার সেভাবে চলতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন যে সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, জামায়াতের আমীর মওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, লুতফুজ্জামান বাবর ও তারেক রহমানের একের পর এক তাগাদায় গোজামিল দিয়ে তড়িঘড়ি করে এলিট ফোর্স র‌্যাবকে সন্ত্রাস দমনের কাজে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়। সম্প্রতি র‌্যাব প্রসঙ্গে আলাপকালে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদেরকে বলেন, র‌্যাব পুলিশেরই একটি ইউনিট। পুলিশের কার্যক্রমই র‌্যাবের কার্যক্রম। র‌্যাাব আর্মড ব্যাটালিয়নের অ্যাক্ট অনুযায়ী করা হলেও আইন নিয়ে সমস্যা নেই। তবে বিধিমালা নেই। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৯৭৬ সালে এক অর্ডিন্যান্স বলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এই পুলিশ বাহিনীর বিধি হয়েছে ২০০৪ সালে। আইনে সব লেখা থাকে না। বিধিতে সবকিছু উলেস্নখ থাকে। বিধিমালার পরিবিধি অনেক বড়। র‌্যাবের বিধিমালা প্রণয়নে কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেড় বছর যাবৎ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত বিধিমালা হচ্ছে বলে আইজিপি জানান। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিকে (গবেষণা ও উন্নয়ন) প্রধান করে ৪ সদস্যের র‌্যাবের বিধিমালা প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হলেও গত দেড় বছরে এর মাত্র একটি সভা হয়েছে। এই কমিটির কার্যক্রম মন্থর গতিতে চলছে। যা শুধু মন্দ সংবাদই নয় হমাশামাখা অন্ধকারেরও সংবাদ। পদ-পদবি নিয়েও র‌্যাব কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এ কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে র‌্যাবের চেইন অব কমান্ডের ব্যাঘাত ঘটে। ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এত কিছুর পরও র‌্যাবের কাছে জনগণের প্রত্যাশার কোন কমতি নেই। র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদেরকে জানান, র‌্যাবের বিধিমালা পূর্ণাঙ্গ নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বের কথা উলেস্নখ থাকায় র‌্যাব নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন যে কোন ধরনের অপরাধকে প্রতিহত করতে অভিযান চালাতে পারে বলে তিনি জানান। এই জানাজানির বাইওে আরেকটি জগত আছে র‌্যাবের; যেখানে স্বার্থ হাসিলের অংক কষা হয় গভীর অন্ধকারের খাতায়। এই খাতাটি আমাদের দেশে কোন প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই অন্ধকারেরও। আমাদের প্রয়োজন নিরপেক্ষ একটি এলিট ফোর্স। যেই ফোর্স হবে নির্দলীয়, সভ্য। র‌্যাবের পোশাক আশাকই বলে দেয় এরা অসভ্য। এই সভ্য যুগে অসভ্য নয় সভ্যতার গান গাইতে হয়তো র‌্যাবকে নতুন করে গড়তে হবে, না হয় বিধিমালা নির্মানের দৌড়ে এগিয়ে থাকতে হবে আমাদেরকেই...


জমির সার্ভে এবং একটি উড়াল সড়কের গল্প
মোমিন মেহেদী
ঢাকায় প্রথম উড়াল সড়ক হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, মগবাজার, কমলাপুর, খিলগাঁও, গোলাপবাগ হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এ সড়কের মূল অংশ ২১ কিলোমিটার। এরসঙ্গে আরও পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সংযোগ সড়ক থাকবে। এর একটি হবে মানিকমিয়া এভিনিউ থেকে তেজগাঁও লেভেলক্রসিং পর্যন্ত। অন্যটি পলাশী থেকে মগবাজার পর্যন্ত। এমনটাই কথা ছিল। কিন্তু সময়ের আড়ালে পড়ে তা ভেস্তে যেতে বসেছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ এবং অন্যান্য কাজ এখনো যেমনটা তেমনই আছে। কবে নাগাদ শেষ হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে সম্প্রতি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ভূমি সার্ভে করার জন্য কোন সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। এমন দায়সারা গোছের কাজ চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ঝিমিয়ে পড়বে, ঝিমিয়ে পড়বে সড়ক ব্যবস্থাাও। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধানে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ করা হবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। পাশাপাশি আরো জানা গেছে, নির্মাণ ব্যয় ৮ হাজার কোটি টাকার ৭৩ শতাংশ বিনিয়োগ করবে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। বাকি ২৭ শতাংশ দেবে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার ৬ কিস্তিতে ২৭ শতাংশ টাকা দেবে। প্রথম কিস্তি নির্মাণ কাজ শুরুর এক বছর পর দেয়া হবে। নির্মাণ কাজ শুরুর আগে কোন টাকা দেয়া হবে না বলে। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সড়ক নির্মাণ চুক্তি সই হয় গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর অভিজাত একটি হোটেলে। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং ইটাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট প্রেমচাই কর্নাসুতা চুক্তিপত্রে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের পর বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ২৫ বছর সড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় করবে। কিন্তু আজ দীর্ঘ দু’মাস পেরিয়ে আসার পর অনিশ্চয়তারমুখে ঢাকা উড়াল সড়ক (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) নির্মাণ কাজ। মার্চ মাসে নির্মাণ কাজ শুরু এবং ৪২ মাসের (২০১৪ সাল) মধ্যে কাজ শেষ করে ঢাকাকে যানজটমুক্ত করাই ছিল সরকারের অঙ্গীকার। তোড়জোড়ও ছিল বেশ। কিন্তু বাস্তবচিত্র উল্টো। মার্চ মাসে নির্মাণ কাজ শুরুতো দূরের কথা জমি অধিগ্রহণই করা হয়নি। একটা গল্প ভালোভাবে শুরু হলেও ভালোভাবে শেষ আর হলো না। কারন, উদাসিন সরকার আর দূর্নীতিবাজ সরকারের আমলা-মন্ত্রী। দেশের মানুষ আর অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের জন্য বুয়েট, রেলওয়ে ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানিকে যৌথভাবে সার্ভে করার দায়িত্ব দেয়া হয়। কথা ছিল ১৫ মার্চের মধ্যে এক সপ্তাহে ১শ' ৫০ একর জমির সার্ভে শেষ করা হবে। সে অনুয়ায়ী গত ৮ মার্চ সার্ভের কাজ শুরু হয়ে গতকাল পর্যন্ত ১৫ দিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সার্ভে শেষ হয়নি। কবে নাগাদ শেষ হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। ভূমি সার্ভে শেষ হলে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। প্রথমে সার্ভে পরে জমি অধিগ্রহণ - এসব শেষ করে উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু কবে হবে সে সম্পর্কে কেউই সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। ফলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। উড়াল সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ আইন-২০১১'র খসড়া নীতিগতভাবে গত ৭ মার্চ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। চুক্তিপত্র সইয়ের সময় যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে কাজ শুরুর কথা থাকলেও চুক্তির তিন মাসের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। সে হিসেব অনুযায়ী মার্চ মাস থেকে নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা। উড়াল সড়ক পর্যায়ক্রমে ঢাকার দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ পদ্মাসেতু ও উত্তরে জয়দেবপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী। অন্যদিকে যোগাযোগ মন্ত্রীর বক্তব্যের বিপরিত মতামত প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেতু বিভাগের এ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কবে কাজ শুরু হবে তা এখনোই বলা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে নির্মাণ কাজ শেষ করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। একদিকে সরকারের অলস কার্যক্রম, অন্যদিকে অলস ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মাঝখানে পড়ে আছে গল্পের শেষ অংশটি। এই অংশটি শেষ করতে না পারলে ভোগান্তি বাড়বে হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, মগবাজার, কমলাপুর, খিলগাঁও, গোলাপবাগ, যাত্রাবাড়ী ও কুতুবখালীর জনগনকে পোহাতে হবে চরম ভোগান্তি। সাথে সাথে এ সড়কের মূল অংশ ২১ কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দারা পড়বেন গ্যারাকলে। যেই গ্যারাকল কারোই কাম্য নয়। এরসঙ্গে আরও পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সংযোগ সড়ক থাকার কথা রয়েছে। এর একটি হবে মানিকমিয়া এভিনিউ থেকে তেজগাঁও লেভেলক্রসিং পর্যন্ত। অন্যটি পলাশী থেকে মগবাজার পর্যন্ত। এই এলাকার মানুষদের ভোগান্তি কমাতে একটু সদয় কি হতে পারবেন না সংশ্লিষ্টরা? প্রশ্নের জাল বুনে এগিয়ে চলছে সাধারন মানুষদের দীর্ঘ মিছিল। এই মিছিল গণ মিছিল, এই মিছিল রণ মিছিলে পরিণত হওয়ার আগেই হোক উড়াল সড়কের বাস্তবায়নযজ্ঞ। এই যজ্ঞ হোক আমাদের ভোগান্তি কমানোর যজ্ঞ...

টিআইবির প্রতিবেদন এবং কর ফাঁকি ২১ হাজার কোটি টাকা
মোমিন মেহেদী

টু-লেট লেখা বোর্ড দেখার ছুতো করে
ব্যালকনিতে দাঁড়ানো একলা দুপুরকে আমি
একটি বৃক্ষের আড়ালে ঢুকে যেতে যেতে
রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখার পর
যুবকের উথ্থিত শিশ্নে কাবাবের মাংস গেথে
উনুনের তাপে ঝুলিয়ে দিয়ে বলেছি,
আহ, কি মধুর যন্ত্রণা!
অনেকটা কবি সাযযাদ কাদিরের এই কবিতার মতই আমাদের বর্তমান। আর এই বর্তমানের ঘোড়ায় চড়ে এগিয়ে আসছে অন্ধকার। এই অন্ধকারের হাতছানিতে ভরে গেছে পুলিশ-প্রশাসন এবং মন্ত্রালয়-সচিবালয়। সরকার আসে সরকার যায় বদলায় মন্ত্রী –আমলাদের জীবন। কেবল বদলায়নায় তাদের জীবন; যাদেও কর ফাঁকি দেয়ার মত সুযোগ নেই। নেই কর দেয়ার মত সম্পদও। আর তাই গত অর্থবছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। সরকারের রাজস্বকে ফাঁকি দিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা চলেছে আরো কিছু বিলাসবহুল মার্কেট, আরো কিছু বিলাস বহুল টাওয়ার আর রঙমহল। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জরিপ চালিয়েছে দেশের বিভিন্ন স্তরের জনগনের উপর উঠে এসেছে আতকে ওঠার মত তথ্য। সম্প্রতি টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানানো হয় দূর্নীতির আখড়া বসার কথাটি। দেশের একমাত্র দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির মতে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে বাংলাদেশে কর ফাঁকি বা আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। আমাদের এনবিআর সংগৃহীত মোট রাজস্বের এক-তৃতীয়াংশ এবং মোট জাতীয় আয়ের প্রায় ৩ শতাংশ এই পরিমাণ। তবে টিআইবির এ তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনবিআর কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা। এনবিআর সদস্য ফরিদউদ্দিন সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ২১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির হিসাবটি কিভাবে বের করা হলো সেটি স্পষ্ট নয়। এটি ট্যাক্স গ্যাপের ফলে হয়েছে কি-না এ বিষয়টি গবেষণায় উঠে আসেনি। আমাদের দেশ এমনিতেই পরপর তিনবার দূর্নীতিতে হ্যাট্টিক করেছে। আর এবার হয়তো সেই সীমানাকেও ছাড়িয়ে যাবে কর ফাকির মধ্য দিয়ে। কথায় আছে ‘বললে বাবা হারাম খায়/ না বললে মায় মাইর খায়’। এখন আমাদের হয়েছে সেই অবস্থা। যখনই সত্য কথাটা বলবো, তখন আর এই লেখাটি প্রকাশিত হবে না। কেননা, আমাদের সংবাদ মাধ্যম স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হয়ে আসলেও স্বাধীনতা পায়নি। স্বাধীনতা পায়নি বলেই নাম উল্লেখ না করে বলছি, এমন অনেক ধণাঢ্য ব্যাক্তি আছেন যারা কর ফাঁকি দিয়ে টানছেন হাজত-জেলের ঘানি। তাদের সেই অন্যায়কে হালাল করার জন্য বেশ কিছু পত্র-পত্রিকাও রেখেছেন লাইফ সাপোর্ট হিসেবে। আমাদের দেশের সরকারও সেই লাইফ সাপোর্টকে সাপোর্ট দিয়ে মুক্ত করেে দিচ্ছেন এইসব ফাঁকিবাজ-দূর্নীতিবাজদেরকে। তবুও কেউ কেউ এগিয়ে আসছেন, বলছেন সত্য কথা। তাদের সারিতে থাকা সাহসি একজন মানুষ বদিউর রহমান বলেছেন, এনবিআর-এর দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা জরুরি। সরকার চাইলেই এটিকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে। আর টিআইবি বলছে , তারা কর ফাঁকি বা আত্মসাতের পরিমাণ বের করেছে একটি সূত্র অনুসারে। সেখানে কালো টাকার সঙ্গে সংগৃহীত কর বা জাতীয় আয় গুণন করে কর ফাঁকির পরিমাণ বের করেছে। আর কালো টাকার পরিমাণ নিয়েছে তারা স্নাইডারের একটি হিসেব থেকে। ২০০৮ সালে স্নাইডারের এক প্রতিবেদনে দেখানো হয় যে, বাংলাদেশের কালো টাকার পরিমাণ গড়ে জিডিপির প্রায় ৩৭ শতাংশ। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম স্নাইডারের ওই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন যে, স্নাইডারের গবেষণাটি নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভ্রান্তি রয়েছে। তিনি বলেন, কালো টাকা নির্ণয়ের পদ্ধতিগত সমস্যা সব দেশেই আছে। তাই স্নাইডারের তথ্য নিয়ে যদি বলা হয় যে ২১ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়' শীর্ষক টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি ও উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক জাকির হোসেন খান, সহায়তা করেছেন নীনা শামসুন নাহার। বিভিন্ন সংবাদ পত্র ও চ্যানেলের মাধ্যমে জানা যায়, রিপোর্ট প্রকাশের এই আয়োজনে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, আকবর আলী খান, সাবেক সচিব আবদুল লতিফ ম-ল, এনবিআর-এর সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, এনবিআর সদস্য ফরিদউদ্দিন, আরেক সদস্য আমিনুর রহমান, কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম সারোয়ার প্রমুখ। এই আয়োজনে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে টিআইবি আরো জানায়, প্রায় দু' বছর সময় ধরে তারা এনবিআরের ওপর এ গবেষণাটি করেছে। এ সময় তারা প্রায় ৭০০ করদাতার অভিজ্ঞতা গ্রহণ করেছে। এছাড়া এনবিআর-এর সঙ্গে তারা দু'বার বৈঠক করেছে বলে জানানো হয়। গবেষণায় এনবিআরের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত মাত্র ১১ শতাংশ (২০০৭-০৮)। কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে কর ফাঁকি ও মূসক আত্মসাৎ, এসব ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা, কর আদায়কারী ও কর প্রদানকারীর মধ্যে অবৈধ সংযোগ, কর প্রদানে জটিলতা ও হয়রানির ভয়, উচ্চ করহার, এনবিআরের অদক্ষতা, কর না দেয়ার সংস্কৃতি এবং এনবিআরে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবগুলোকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব, এনবিআর-এ চেয়ারম্যান পদে ঘন ঘন পরিবর্তন, ঘন ঘন এসআরও জারি করে শুল্ক পরিবর্তন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্তগুলোও এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে বলে জানায় টিআইবি। এনবিআরের দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে দেয়া হয় বিভিন্ন তথ্য। টিআইবির দেয়া তথ্যে উঠে আসে, দুদকের একটি টাস্কফোর্স এনবিআরের একজন বোর্ড সদস্যের ব্যাংক হিসেবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা পায়। এতবড় মাপের একটি অপরাধ করেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সহায়তায় ওই ব্যক্তি পার পেয়ে যান। এছাড়া এক কমিশনার তার প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ উপার্জনের বিপরীতে এনবিআরের এক সাবেক চেয়ারম্যানের সম্মতিতে মাত্র ৫৩ লাখ টাকা কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করে। কর ফাঁকির উদাহরণ হিসেবে বলা হয় : ঢাকা শুল্ক হাউজের হিসাব অনুযায়ী একটি নামকরা ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি একটি পিএসআই কোম্পানি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং কর সংগ্রহকারীদের যোগসাজশে ২০০২-০৩ থেকে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিটি পণ্যের প্রকৃত মূল্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার ইউএস ডলার হলেও বাস্তবে ২২ থেকে ২৫ হাজার ডলার দেখানো হয়। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধ করে এনবিআরকে একটি দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংস্থাটিকে স্বায়ত্তশাসন দেয়া, জনবল নিয়োগ ও কর কর্মীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে এনবিআরকে ক্ষমতা দেয়া, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রহিত করা, নীতি নির্ধারক ও এনবিআর কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা, কর ন্যায়পাল বিলুপ্ত না করে এর ক্ষমতা বাড়ানো, টিআইএন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কোড সমন্বয় করা, সুশীল সমাজ এবং অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক টিম গঠন করা এখন শুধু দূর্নীতি রোধ করার জন্যই প্রয়োজন নয়, প্রয়োজন সুন্দর আগামীর জন্য। যেই আগামীতে থাকবে সৎ মানুষের বসবাস। কথায় আছে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস/ অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। সেই অসৎ সঙ্গ ত্যাগ না করলে এই মহাজোট সরকারেরও হতে পারে সর্বনাশ। আমাদেও দেশের আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতার স্বপক্ষের এই সরকারের সর্বনাশ চায়না বলেই উচ্চারিত হচ্ছে বিভিন্ন মতামত পরামর্শ। সরকারের প্রধানমন্ত্রী, আপনাকেই বলছি, আপনার উচিৎ হবে এই দূর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা। না হলে সেই লোহার গল্পের মত হতে পারে আপনাদেরও বর্তমান আর আগামী। আশা করি বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না। কি বলতে চাইছি। এনবিআরে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি না ভাবলেও চলে। তবে সংস্থাটির মানব সম্পদ দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়াটা জরুরী। কোনভাবেই এনবিআরে দেয়া সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা যাবে না। এটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঝুঁকির কারণ হতে পারে। পৃথকভাবে নীতিনির্ধারকদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা যেতে পারে । আর এই মাধ্যমটিই এনে দিতে পারে আমাদের রামের সেই সুমতি...


শান্তির জন্য প্রয়োজন শিবির মুক্ত শিক্ষাঙ্গন
মোমিন মেহেদী

নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রনিকে ছাত্র সংসদের কক্ষে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এমন সংবাদ আমাদেরকে আশাহত করে। সেই আশাহতের পেছনে রয়েছে দেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াত ইসলামের পদলেহী ও সমর্থক গোষ্ঠি ছাত্র শিবিরের ইন্ধন। ওরা চায় দেশের প্রধান দু’টি ছাত্র সংগঠন ছাত্র দল ও ছাত্র লীগকে মুখোমুখি রেখে ওদেও অবস্থান শক্ত করতে। তারই সূত্র ধরে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মামুন ও রাজু। গত ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র সংসদের নিজ কক্ষে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি গুলি ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে টয়লেটে ফেলে রাখে। এ সময় পুলিশের ঢাকা বিভাগের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়ার উপস্থিতিতে সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভা চলছিল। সকালে রনি ছাত্র সংসদের ২য় তলায় নিজ রুমে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা ১৫/২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা করে। এ সময় সে দরজা বন্ধ করে বাঁচার চেষ্টা করে। পরে সন্ত্রাসীরা দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকে প্রথমে গুলি ও পরে কুপিয়ে আহত করে। পরে রনি আত্মরক্ষার জন্য নিজ রুম থেকে বেরিয়ে বাথরুমের ভেতরে আশ্রয় নিলে সেখানেও সন্ত্রাসীরা গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে একাউন্টিং অনার্সের ছাত্র মামুন মৃধা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেয়া হয়। মুহূর্তে কলেজ সংসদের জিএস রনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদী সরকারি কলেজসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা রাস্তায় নেমে পড়ে। নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সামনে শত শত শোকাহত ছাত্রজনতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরে পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর নরসিংদী সরকারি কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ আবুবকর ছিদ্দিক সাংবাদিকদেরকে জানান, ক্লাস চলাকালে ১৫/২০ জনের একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কলেজের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে এবং দু'তলার দুটি কক্ষে তালা লাগিয়ে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জিম্মি করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ছাত্র সংসদের জিএস বিল্লাল হোসেন রনিকে খুন করে এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মামুন ও রাজুকে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি নরসিংদী সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ছাত্র সংসদের বাথরুম থেকে রনির মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং আহত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মামুন (২০) ও রাজুকে (২২) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আমরা একটু খেয়াল করলে দেখবো যে, এই ইস্যুকে সাথী করে ছাত্রদল নেতা রনি হত্যার প্রতিবাদে গতকাল স্থানীয় ছাত্রদল বিক্ষোভ করে এবং হরতাল আহ্বান করে। যা শুধু ছাত্র সমাজের জন্যই ভীতিকর নয় দেশ ও দশের জন্যেও ভীতিকর। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে অতি শীঘ্রই ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তা না হলে পুনরাবৃত্তি হতে পারে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার। আবারো সেই যুদ্ধাপরাধী চক্রের সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির মেতে উঠতে পারে মৃত্যুর হোলি খেলায়। এইতো গত ১৫ মার্চ কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় ছাত্রলীগ ও ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে চল্লিশজন আহত হয়েছে। যদিও ঘটনার পরে পুলিশ ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিনসহ ৭ শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে বিপুলসংখ্যক লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র। জানা গেছে, গতকাল সদ্য ভর্তি হওয়া অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্রশিবির ক্যাডাররা মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকলে ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেবার সময় পাঁচ ছাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হয়। দুপুর দেড়টায় শিবির ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর হামলা চালালে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় চল্লিশজন ছাত্রলীগ ও শিবির কর্মী আহত হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ শাখার আহ্বায়ক আবদুল্লা খান নান্নু অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে ছাত্রলীগ কর্মীদের ওর হামলা চালায়। শিবির নেতা আল আমিন অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দশ শিবির কর্মীকে আহত করে। কোতোয়ালি থানার ওসি হায়দার আলী মোল্লা জানান, পুলিশ ছাত্রশিবিরের ৭ ক্যাডারকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে। দুপুর আড়াইটায় পুলিশের একটি দল কলেজের জিএল ও ওসমানী ছাত্রবাসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুলসংখ্যক লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এভাবে আর মৃত্যুর হোলি খেলা নয়, চাই সন্ত্রাসের উল্লাসীদের প্রেতাত্মা ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবির মুক্ত শিক্ষাঙ্গন। চাই শান্তির সূত্র...


একটি তদন্ত প্রতিবেদন ও ঠাকুর ঘরে কলা খাওয়া
মোমিন মেহেদী

সম্প্রতি নামসহ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। শেয়ারবাজারে সংঘটিত অনিয়মের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। তিনি আরো বলেছেন, অধিকতর তদন্ত হলে আরও অনেক অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে। তার বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পুনর্গঠিত এসইসির সমন্বয়ে পরবর্তী তদন্ত হতে পারে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে হয়তো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, আংশিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা ঠিক হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের নামসহ এটি প্রকাশ করা যেতে পারে। তাদের নাম 'দায়ী' হিসেবে প্রকাশ না করে 'অভিযুক্ত' হিসেবে প্রকাশ করা যেতে পারে। পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হবে। সরকারের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। অন্যথায় জনগণ মনে করতে পারে, সরকার কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে। সরকারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ-পরবর্তী দিনে ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, 'আমরা (তদন্ত কমিটি) কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করিনি। সরকারেরও লুকানোর চেষ্টা না করাও ভালো। বরং এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে।' একদিকে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মত স্বচ্ছ মানুষদের কাজ চলছে স্বাধীনতার পক্ষ্যের সরকারকে স্বচ্ছ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য; অন্যদিকে কিছু মানুষের চলছে একের পর এক যাচ্ছে তাই কর্মকান্ড। যা সরকারের প্রতিটি কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা হিসেবে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান ও ডিএসই'র সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমানের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক থাকার সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। এটি না করলে পুঁজিবাজারে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে তদন্ত কমিটি। শেয়ার বাজারে ব্যাপক কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি)-র সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক কফিল উদ্দিন চৌধুরীর (বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোশেনের মহাব্যবস্থাপক) বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি দুর্নীতির মামলা করারও সুপারিশ জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার জন্য এসইসি-কে দায়ী করে এর চেয়ারম্যান, ইডি ও সদস্যদের অপসারণ করে পুনর্গঠন এবং ডিএসই ও সিএসই'র পরিচালকদের পুঁজিবাজারে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় দুটি স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেজভাজনদের মধ্যে পুঁজিবাজার লেনদেন ও পরিচালনায় বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং ডিএসই'র সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির মতে, পুঁজিবাজারের প্রভাব রাখতে সক্ষম এ দু'ব্যক্তি সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারলে এসইসি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর ফলে আবারও বিপর্যয় দেখা দিতে পারে শেয়ারবাজারে। জানা গেছে, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির তদন্তকালে এ দুজনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক মতামত পাওয়া গেছে। এসইসিকে প্রভাবিত করতে দুজনই সক্রিয় ছিলেন বলে অনেকের ধারণা। এসইসি'র বর্তমান চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং সদস্য মনসুর আলমের পুনঃনিয়োগে সালমান এফ রহমান ও রকিবুর রহমানের জোরালো তদবির ছিল। বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের অস্বচ্ছ কেসটির তদবিরে সালমান এফ রহমান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে ধরনা দিয়েছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটির মতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি পরিচালনায় এ দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ছিল। এ কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের কারসাজির বিষয়ে এসইসিকে মূল দায়ী হিসেবে শনাক্ত করার কারণ সম্পর্কে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, 'প্রাইমারি শেয়ারবাজারের (আইপিও, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট) অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করতে গিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছি। এক্ষেত্রে একটাও আইনগত অভিযোগ দাঁড় করানো যায়নি, কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন ছিল। আমরা প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেছি।' তিনি আরও বলেন, 'নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এসইসির ব্যর্থতার দায় কোনোক্রমে তিনি এড়াতে পারেন না। কারণ, তার অনুমোদন নিয়েই অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে।' প্লেসমেন্ট বাণিজ্য বিষয়ে তিনি বলেন, 'এটা (প্রাইভেট প্লেসমেন্ট) মহামারী আকার ধারণ করেছিল। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সামরিক অফিসার, বেসরকারি কোম্পানি, ব্যাংক, বীমা কর্মকর্তাসহ এমন কোনো পেশাজীবী পাইনি, যারা প্লেসমেন্ট পাননি। এসব বিষয়ে শুরুতেই ব্যবস্থা নিতে পারত এসইসি। এছাড়া সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রেও অনেক অনৈতিক কর্মকাণ্ড, যা বাজার কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এসব ক্ষেত্রে এসইসির কয়েকজন কর্মকর্তার জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাজার কারসাজির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে, এমন অনেক অনৈতিক লেনদেনে আইসিবির (রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান) সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যা আমাদের অবাক করেছে।' সম্প্রতি ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করে। এতে গত দুই বছরে শেয়ারবাজারের কারসাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি তথ্য-উপাত্ত প্রদান করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ইব্রাহিম খালেদ তুলে এনেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ব্যর্থতায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়। বাজারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকারসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দায়ী করে তাদের অপসারণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সরকারের কাছে তিনি কী আশা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, 'সরকার প্রতিবেদন নিয়ে কী করবে, তা সরকারের বিষয়। আমরা (তদন্ত কমিটি) চাই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হোক। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আরও তদন্ত করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে করে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে কারসাজি করতে স্বার্থান্বেষীরা সাহস করবে না।' বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নর বলেন, 'ছিয়ানব্বই সালের শেয়ারবাজারের কারসাজির বিচার হলে, হয়তো এখন এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত।' এবারের তদন্তের পর সরকার ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তার কথার সাথে একমত পোষন কওে বলঅ যায়, প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, সরকার ইচ্ছা করলে তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অধিকতর তদন্ত করতে পারে। সময় নিয়ে তদন্ত করা হলে অভিযুক্তদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত দুই বছরে শেয়ারবাজারে সামগ্রিক লেনদেনের বিষয়ে মাত্র দুই মাসে তদন্ত সম্ভব করা একেবারেই অসম্ভব ছিল। কমিটির চার সদস্য দিনরাত পরিশ্রম করে তদন্ত কাজ করেছে। গত দুই মাস ধরে তারা নিজেদের অফিসের কাজ করতে পারেননি। সময় পেলে হয়তো আরও ভালোভাবে প্রতিবেদন করা, আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হতো। তারপরও এই বস্তুনিষ্ট তদন্ত যে তথ্য উঠে এসেছে সে অনুযায়ী কাজ করার পরামর্শটা এখন বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তদন্ত শুরুর পর একটি বিও হিসাবের বিষয়ে অনেক অনিয়ম হয়েছে। এমন বিশ্বাস হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সব রকমের তথ্য জানার চেষ্টাও করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসির সহায়তা নিয়ে ২০ দিনেও ওই বিষয়ে পুরো তথ্য পায়নি। তদন্ত কমিটি গবেষণার মতো করে কয়েকটি কেস স্টাডি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। সার্বিক অনিয়ম বের করতে হলে অন্তত বছরব্যাপী একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে পারে সরকার। 'যারা অভিযুক্ত' শিরোনামে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেয়ারবাজারে অভিযুক্তদের তালিকায় নিজের নাম থাকায় এর প্রতিবাদ করেছেন বিএনপির সাবেক সাংসদ আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু। তার একান্ত সচিব ক্যাপ্টেন (অব.) হাসিব হাসান খান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ পত্রে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে মোসাদ্দেক আলী কোনোভাবেই জড়িত নন। তিনি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ, উৎস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য তার আয়কর নথিতে প্রকাশ করা হয়েছে। বেনামে বা অন্য কোনো পন্থায় শেয়ারবাজারে তার কোনো বিনিয়োগ নেই। তিনি শেয়ারের মূল্য অতিরঞ্জিত করার কোনো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কোনো প্রমান ছাড়াই বার বার শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে তার কাল্পনিক সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্নভাবে বলে আসছে। মোসাদ্দেক আলী ফালু এ ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। বলা যায়, ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না। এই বর্তমানের পিঠে চলেছে স্বদেশ। এই বর্তমানের উত্তরণের জন্য শুধু সরকার ও শেয়ার ব্যবসায়ীদেরকে সাবধান হলেই চলবে না। হতে হবে কঠোরও। অন্যায়কারী সে যেই হোক বিচার করাটা সরকারের দায়িত্বও বটে। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন। সালমান এফ রহমান ও রকিবুর থেকে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে যে পথ দেখানো হয়েছে। এই পথে হাটা উচিৎ আগামীর জন্য, বর্তমানের জন্য এবং সুন্দর শেয়ার বাজারের জন্য। কেননা, তদন্ত কমিটি এসইসি'র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়ার স্ত্রী রোখসানা আখতারের নামে ৪টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অংকের শেয়ার লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া আইসিবি'র তখনকার উপ-মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোশেনের মহাব্যবস্থাপক) কফিল উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ফারজানা আখতার এবং শ্যালক মনসুর বিল্লাহের নামে শেয়ার লেনদেন ও প্লেসমেন্টের প্রমাণ পেয়েছে। লেনদেনের মুনাফার অর্থ আবার কফিল উদ্দিন চৌধুরীর নামে এফডিআর করা হয়েছে। আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া ও কফিল উদ্দিন চৌধুরী দুজনই অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বলে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া এ দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিয়ে সরকার যাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে সে জন্য বিভাগীয় মামলার অতিরিক্ত দুর্নীতি মামলা করা উচিত বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। বিচক্ষণ এই তদন্ত কমিটির এমন মতামত সরকার যদি ভুলেও ভুল ভেবে কঠোর না হয়; তাহলে ফিরে ফিরে আসতে পারে শেয়ার বাজারের অশান্তি; কষ্টের প্রহর গুণতে হতে পারে সরকার ও সংশ্লিষ্টদেরকে। যা কাম্য নয় শেয়ার বাজারে রাতদিন খেটে যাওয়া মানুষদের...

তোরা সব জয়ধ্বনী কর


দামাল
পানি আইন ও সচেতনতার সেতুবন্ধন
মোমিন মেহেদী
পানির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে আইন চূড়ান্ত। আইন অমান্যে কারাদন্ড দেয়ার ঘোষনাকরা হয়েছে এই আইনে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দেশে আদৌ কি কোন আইন বাস্তবায়ন হয়েছে সঠিকভাবে? উত্তর আসবে হয়নি। যে দেশে মানুষ খুন করেও পার পেয়ে যায় টাকা আর মামা-খালুর জোড়ে। সেই দেশে পানি আইন অমান্য করার বিষয়টি কিভাবে নেবে দেশের মানুষ, সেটা এখর দেখার বিষয়। এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচিৎ ছিল প্রথমে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা। তারপর আইন অথবা অন্যকোন উপায় বের করা। তা না করে আইন চূড়ান্ত করেছে। এই আইনে উঠে এসেছে, পানি শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিধান, পূর্বানুমতি ছাড়া বিনোদন কাজে ব্যবহার করার উপর নিষেধসহ বেশ কিছু আইন। যা পালন নিয়ে যথেষ্ঠ সুযোগ তৈরি হবে আমাদের দেশের ঘুষখোড় আর সুবিধাবাদীদের। এইসব ভুল সিদ্ধান্ত আর অসংখ্য ত্রুটি নিয়ে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন, ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে পানি আইন হচ্ছে। এই আইনের নাম রাখা হয়েছে 'বাংলাদেশ পানি আইন-২০১০'। ইতোমধ্যে পানি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। পানি আইনে পানি শুল্ক কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। অপরদিকে পানি আইন অমান্যে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের বিধান থাকছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পানি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে পানি শুল্ক কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবিত পানি আইনে পানি শুল্ক কর্তৃপক্ষের বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার সময়ে সময়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে এক অথবা একাধিক সমন্বিতভাবে পানি সরবরাহ, উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পানি নিষ্কাষণের জন্য শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে। শুল্ক ধার্য ও আদায়কারী কর্তৃপক্ষ এ আইনের মাধ্যমে এই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবেন। পাশাপাশি পার্বত্য এলাকাকে এই আইনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। পানি আইনের প্রথম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম এলাকা পানি আইনের আওতার বাইরে থাকবে। পাবর্ত্য জেলা পরিষদ এই আইনের অনুসরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পানি সম্পদ আইন প্রণয়ন করতে পারবে। পানি আইন নিয়ে পাঁচ বছর কারাদন্ড। বিষয়টি একটু আশ্চর্যের হলেও এই পানি আইনের ২ নম্বর পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি এ আইনের কোন অপরাধ করলে পাঁচ বছরের কারাদন্ড ভোগ করবেন। অথবা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। যেখানে অসংখ্য খোলা ট্যাপ কলের মাধ্যমে হাজার গ্যালন পানি অপচয় হচ্ছে, সেখানে এমন একটি আইন আসলেই চিন্তার উদ্রেক করছে। পানির সাধারণ অধিকার নিয়ে এই আইন বলছে, পানি আইনে প্রাকৃতিক জলাধারের পানি ব্যবহারের সাধারণ স্বাভাবিক অধিকারের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের জন্য হাতে বহনকৃত পাত্রের মাধ্যমে পানি বহন করা যাবে। আর গোসল অথবা ধৌতকাজে, গৃহপালিত অথবা খামারের জীবজন্তুকে পানি খাওয়ানো বা গোসল করানোর কাজে, নৌকা বা ছোট জলযান চালানোর কাজে অথবা সাধারণ কৃষিকাজে পানি ব্যবহার করা যাবে। বিনোদোনমূলক ব্যবহার নিয়েও রয়েছে সিদ্ধান্ত। পানির বিনোদনমূলক ব্যবহার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার পূর্বানুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি সরকারি অথবা জনস্বার্থে সংরক্ষিত পানিস্রোত, হ্রদ, পানির উৎস বা আধার বিনোদনের জন্য সম্প্রসারণ করতে পারবে না। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর না হলে এ ধরনের পানির উৎস থেকে বিনোদনের জন্য যথাযথ তদন্ত ও বিচার-বিবেচনা করে ব্যবহারের অনুমতি পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা প্রদান করতে পারবে। পানির মালিকানা, বণ্টন ও ব্যবহারের অধিকার প্রসঙ্গে বলেছে অন্যরকম কথা। পানি আইনে বলা হয়েছে, পানি ও পানি সম্পদের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের। দেশের অভ্যন্তরের সব ধরনের ভূপরিস্থ পানি, অবিরাম অথবা সবিরাম ঝরনা ও প্রাকৃতিক জলরাশি, ভূগর্ভস্থ পানি ও দেশের সমুদ্রসীমার পানি রাষ্ট্র্রের। অপরদিকে কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পানিও রাষ্ট্রের থাকবে। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে, জমিতে প্রবাহিত অবিরাম ও সবিরাম পানি প্রবাহ, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট হ্রদ অথবা জলাধার যদি নদীর সাথে যুক্ত থাকে, জলাভূমির পানি, ভূগর্ভস্থ পানি। এখন থেকে পানি ব্যবহারের জন্য মূল্য ধাযর্টিও হবে একটু ব্যতিক্রম। সরকার সময়ে সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পানির যেকোন ব্যবহারের ওপর মূল্য পরিশোধের জন্য মূল্যনীতি ধার্য করতে পারবে। পানির ভিন্ন ভিন্ন ব্যবহারে ভিন্ন ভিন্ন মূল্য ধার্য করা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাষণ প্রকল্পের জন্য সরকার থেকে বিবেচিত একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত বিভিন্ন প্রয়োজনে মূল্যনীতি ধার্য করা যাবে। এসব প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে, পানি সম্পদ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক খরচ, পানি সম্পদ ব্যবহারের পরিবীক্ষণ, পানিতে বর্জ্য ব্যবহার প্রতিরোধ, অপচয় হতে পানি সংরক্ষণ ইত্যাদি। এখন থেকে পানি ব্যবস্থাপনা সমিতিও কাজ করবে পানির বন্টনও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। পানি আইনে পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি কর্তৃক মূল্য আদায় করার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার যে কোন এলাকায় যে কোন সমিতিকে পানি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মূল্য আদায়ের জন্য আদেশ দিতে পারবে। এ কারণে সেই সমিতিকে কমিশন দেয়া হবে। তবে কমিশনের হার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। পানির অন্যান্য বিষয় নিয়েও রয়েছে বিষদ অলোচনা। পানি আইনে বারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। উপরোক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও এ আইনে পানি নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, আর্থিক অনুবিধি, পানি ব্যবহারকারী সমিতি, নদ-নদী প্লাবন, জলাধার সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পানি আইন নিয়ে রপানি সচিবের বক্তব্য হলো, পানির যথাযথ ব্যবহার এবং অপচয়রোধের লক্ষ্য থেকে আমাদেও এই পানি অঅইন বাস্তবায়নের চেষ্টা। সাংবাদিকরা পানি আইন বিষয়ে জানতে চাইলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদেরকে আরো বলেন, পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে পানি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। পানি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হলেও বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাজীবীর মতামত নিয়ে পানি আইন চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, জনস্বার্থেই পানি আইন প্রণয়ন করা হবে। এখন কথা হচ্ছে, যে পানি সংশ্লিষ্টদেও অবহেলার কারনে অপচয় হচ্ছে তা রোধ না কওে পানি আইনের মাধ্যমে কি আদৌ পানির অপচয়রোধ করা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ পানি গবেষক বলেছেন, সবার আগে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা পানি কর্মকর্তাদেরকে আগে সচেতন ও সৎ হতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষকে দেখানোর জন্য একের পর এক আইন চূড়ান্তা আর ঘোষনা সম্ভব। বাস্তবায়ন নয়। কেননা, মানুষ তখনইসচেতন হয়; যখন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সাথে সরকাওে থাকা মন্ত্রী-এমপি ও সুশিল সমাজ সচেতনতার সাথে একটি বিষয়ে একাত্ম হয়; তার আগে নয়। অতএব, পানি আইনটি এসময়ে এভাবে চ’ড়ান্ত করা বা ঘোষণা করাটা কেবলমাত্র বোকামীই হবে না, হবে একরকম াসচেতনমূলক কাজও। পানি আইন ঘোষনার আগে এই আইন ও আইনের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য চলুন না এগিয়ে যাই সবাই সবার হাত ধরে...

নতুন ছায়া নতুন মায়া
মোমিন মেহেদী

একটা ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে বিশ্ব করে মায়াময়
একটা দিনের ছায়ায় হলো এই বিশ্ব ছায়াময়
এই ছায়াটা মায়ের
এই ছায়াটা গাঁয়ের
গাঁয়ের শেষে শিমুল গাছের আদর করা রঙ
এই রঙেরই মায়ায় সাজে শিশু-কিশোর সঙ

সঙ সেজেছে আমার মামা
সঙ সেজেছে আলো
আলোর মুখে মায়ার ছায়া
নয়তো আঁধার কালো

কালোরা আজ পালিয়ে গেছে আসবে আলো তাই
আলোরা আজ জমিয়ে আছে ভাগবে কালো তাই

কালোর ঘরে আলো এখন
গড়বে বসত বাড়ি
আজকে সবাই সত্যি নেবে
কালোর সাথে আঁড়ি

আঁড়ি নেবে কালোর সাথে ভালো হওয়ার লক্ষ্যে
ভালোরা আজ পাবেই কেবল ভালো হওয়ার রক্ষে
নতুন ছায়া নতুন মায়া
নতুন সবাই পুত্র জায়া
সবার নতুন সাজ চলছে কেবল দেশের জন্য
আজকে সবাই বাংলাদেশে বাঙালী অনন্য।

মেঘনার রুপালী আদর এবং জাতীয় নদী প্রসঙ্গ
মোমিন মেহেদী
১৪ ছিল মার্চ ছিল আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস। আমরা দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ভাষায় বলতে পারি ইন্টারন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারস। দিবসটি কেবলই নদীর প্রতি জবাবদিহি করার দিন। সারা বছর নদী তার পানি ও প্রতিবেশে আমাদের জীবন সচ্ছল রাখে। এর প্রতিদান আমরা কীভাবে দিই, তার হিসাব-নিকাশের দিন এটি। ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলে কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশ থেকে নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দেওয়া এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেখানে একত্র হয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। তাইওয়ান, ব্রাজিল, চিলি, লেসোথো, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরাই ১৪ মার্চকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সেই থেকে এই দিবস পালিত হচ্ছে। তারই সূত্র ধরে এ বছরও পালিত হয়েছে ১৪তম নদীকৃত্য দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নদীর জন্য অনুপ্রাণিত হোন, সৃষ্টিশীল হোন, সক্রিয় হোন’। কিন্তু আসলে আমরা সাধারন মানুষ, আমলা-মন্ত্রী বা দেশের প্রধানমন্ত্রী- প্রেসিডেন্ট কি একটিবারের জন্যেও ভেবেছেন, হয়েছেন সচেতন? হননি। কারন একটাই নদীর প্রতি কারোই ভালোবাসা নেই। থাকলে ফারাক্কা সমস্যার জালে বন্দী হয়ে পদ্মা নদীর মত এমন স্র্রোকস্বীনি সুখ হারিয়ে যেত না। অন্ধকারের যাতাকলে পিষ্ট হতো না আমাদেও বুড়িগঙ্গা, আমাদের কীর্ত ণখোলা, আমাদেও শীতলক্ষা, আমাদের কর্ণফুলী, আমাদের হালদা আর অসংখ্য আনন্দ বয়ে চলা নদী-উপনদী। যদিও নদী নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই করার আছে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যে দেশ নদীর আশীর্বাদে গড়ে উঠেছে অথচ যেখানে নদীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে এমন দিবস আরও তাৎপর্যপূর্ণ। নদীর ব্যাপারে সক্রিয় হওয়া আমাদের কর্তব্য। মুমূর্ষু নদীগুলোকে বাঁচাতে সৃষ্টিশীল আয়োজন ও উদ্যোগের বিকল্পও নেই। পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জাতীয় ফুল শাপলা, জাতীয় পাখি দোয়েল আর জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত করে জাতীয় নদী চাই দেশের মূল স্রোতধারায় গতি ধরে রাখার জন্য। এইতো ২০০৯ সালে বহুল আলোচিত গঙ্গাকে আমাদেও পাশ্ববর্তী দেশ ভারত জাতীয় নদী ঘোষণা করেছে। গঙ্গাকে জাতীয় নদী ঘোষণা করেই ভারত সরকার খালাস হয়নি। এর মর্যাদা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে প্রধান এবং যেসব রাজ্যের ওপর দিয়ে গঙ্গা বয়ে গেছে, সেগুলোর মুখ্যমন্ত্রীকে সদস্য করে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। পাশ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানও সিন্ধু নদীকে ‘কওমি দরিয়া’ বা জাতীয় নদী ঘোষণা এবং প্রতিবছর ২৪ জানুয়ারি সিন্ধু দিবস ঘোষণা করেছে। নদীবহুল যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন বিবেচনায় পাঁচটি প্রবাহকে জাতীয় নদী ঘোষণা করা হয়েছে। কোনোটি সবচেয়ে দূষণমুক্ত, কোনোটি সবচেয়ে প্রাকৃতিক, কোনোটি সুদৃশ্যতম, কোনোটি আবার প্রবাহিত হয়েছে ঐতিহাসিক সব স্থানের মধ্য দিয়ে। একটি নদীকে জাতীয় ঘোষণা করার অর্থ বাকি নদীগুলোর ব্যাপারে কম মনোযোগী হওয়া নয়। বরং অন্য নদীগুলোর প্রতি আরো মনোযোগী হওয়া। যাইহোক আমাদের দেশে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত একটি জাতীয় নদী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা, এই দেশ নদী-খাল আর হাওর-বাওরের দেশ। আমাদের দেশে তো জাতীয় ফুল, জাতীয় ফল, জাতীয় বৃক্ষ ও জাতীয় পাখি সহ আরো কত জাতীয় বিষয় আছেই, নদী কেন বাদ থাকবে? জাতীয় নদী ঘোষণা করা হলে সেটি নদী সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার জাতীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। এর আদলে অন্য নদীগুলোকেও প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো-আমাদের নদী এখন প্রাণহীন-দখলায়নের পাল্লায় পড়ছে। এখান থেকে সরে আসতে একটা নদী উন্য়ন প্রতিষ্ঠানই শুধু নয় প্রতিটি মানুষের মধ্যে নদীপ্রীতি প্রয়োজন। যাতে করে আমাদের নদী হয় দখল মুক্ত ময়লা মুক্ত আর ভাঙ্গনমুক্ত। বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা তুরাগসহ বহু নদী দূষিত ও দখল হয়ে যাচ্ছে নদীদস্যুদের কবলে পড়ে। নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় অনেক নৌপথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে যেমন জাতীয় পর্যায়ে তেমনি আঞ্চলিক পর্যায়েও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর উৎস ভারত, নেপাল ও চীন। আমাদের নদীগুলোকে সুন্দর- সচল ও স্বাস্থ্যবান করতে হলে কেবল জাতীয় নদী ঘোষণা নয়, আরও অনেক কাজ করা দরকার। কিন্তু এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতারও প্রয়োজন আছে। তাতে করে নদীবিষয়ক চিন্তা ও তৎপরতায় নিঃসন্দেহে উৎসাহ বাড়বে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনটারও সঠিক কার্যকম প্রয়োজন আমাদের নদীমাতৃক এই দেশে। নদীমাতৃক দেশ আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো মৃতপ্রায়। নদীগুলোতে চর পড়ে কমে গেছে নাব্য। অন্যদিকে দেশব্যাপী নদী দখল ও দূষণে বলতে গেলে নদীর অস্তিত্বই হারিয়ে যেতে বসেছে। পানি ধারণ করার মতো ক্ষমতাটুকু অধিকাংশ নদীরই নেই। নদীদূষণ ও দখল রোধে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠনের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তা আমাদের অন্ধকার ঘরে আশার আলো দেখায়। নদীদূষণ, দখল রোধকল্পে স্বাধীন নদী রক্ষা কমিশন গঠন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। সৎ ও যোগ্য লোকদের এ কমিশনে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি দেখতে হবে সুদৃষ্টিতে। দেশের নদী রক্ষার মধ্যে দিয়ে এ দেশের পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। সম্ভব জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবা থেকে দেশ জাতিকে উদ্ধার করা। জাতীয় নদীনদীকৃত্য দিবস পালনের ফাঁকে ফাঁকে জাতীয় নদী চাই স্লোগান উঠেছিল। কিন্তু কোন নদীকে জাতীয় নদী চায় তা বলেনি কেউ। না রিভারাইন পিপল নামক নদী কেন্দ্রিক সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি না কোন বুদ্ধিজীবি। কেউ যখন বলেনি, তখন আগ বাড়িয়ে আমাদেও সাধারন মানুষের মতামতের বিষয়টি তুলেই ধরি। জাতীয় নদী হওয়ার যোগ্যতা রাখে পদ্মা। কিন্তু এইনদীকে নিয়ে উপন্যাস, গল্প কবিতা আরো অনেক বিষয় লেখা হলেও পদ্মা আর সেই পদ্মা নেই। যেহেতু নেই পদ্মার সেই যৌবন সেহেতু মেঘনাই হতে পারে আমাদেও সোনার দেশের জাতীয় নদী। এ ই নদীকে ঘিরে রয়েছে আমাদেও মুক্তিযুদ্ধেও ইতিহাস, এই নদীকে ঘিরে রয়েছে আমাদেরসোনার দেশ নির্মানের অপার সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাময় মেঘনাই হাসুক জাতীয়নদীর হাসি। এই নদীর মাছ সারাদেশে চলে যায় ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে। সেই আলোকিত সময়ের সাথী মেঘনা বয়ে চলেছে দেশের প্রধান প্রধান শহর আর ইতিহাসসমন্বিত এলাকার কুল ঘেঁষে ঘেঁষে। 'নদীর জন্য অনুপ্রাণিত হোন, সৃষ্টিশীল হোন, সক্রিয় হোন' এমন প্রতিপাদ্য প্রতিফলিত হোক সকালের রোদের মত। আমাদের দেশেই শুধু নয় নদী বিশ্বেও অনেক দেশেই মানুষের প্রিয় পছন্দ। সেই পছন্দের জায়গাটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিভারস নামের একটি সংগঠন আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উদযাপনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ২১টির বেশি দেশে ৪৮টি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বছর আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস পালিত হচ্ছে। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। নদী শুধুআমাদেরই নয়, অনেক দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। সাহিত্য, গান, নাটক, চলচ্চিত্রে নানাভাবে উঠে এসেছে নদীর প্রসঙ্গ। এত কিছুর পরেও আমাদের নদীগুলো মুমূর্ষু অবস্থায়। মানবসৃষ্ট কারণে নদীগুলো মৃতপ্রায়। প্রতি বছরই কমছে নদীর সংখ্যা। নদীর বহুমুখী সংকটের এ ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে নদীকৃত্য দিবসেই শুধু নয়, প্রতিনিয়ত আমাদের নদী রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। নদীর সুস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি বর্তমানে সারাবিশ্বেই আলোচিত। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ভিন্ন পরিসরে আলোচনার দাবি রাখে। এখানে নদী মরে যাচ্ছে, হারিয়ে ফেলছে বর্ণময় রূপ। স্বাধীনতার পর কম-বেশি ২০ হাজার কিলোমিটার নদীপথ হারিয়ে গেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া নদীএখন ক্ষমতাসীনদের বালু তৈরির কারখানা। এই কারখানা বন্ধ করে নদীর বয়ে চলা অব্যহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি করতে হবে একটি জাতীয় নদীর বর্তমান আগামী নিশ্চিত। যাতে কওে নদীর প্রতি ভালোবাসা বয়ে চলে নদীরই মত। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচটি প্রবাহকে জাতীয় নদী ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে রয়েছে 'ন্যাশনাল রিভারস অথরিটি'। প্রশ্ন উঠতে পারে, জাতীয় নদী ঘোষণার মাধ্যমেই কি নদী রক্ষা সম্ভব হবে? নদীর প্রতি সচেতন হওয়ার আরও অনেক উপায় রয়েছে, আরও অনেক কিছু করার রয়েছে। তবে জাতীয় নদীর ঘোষণা নদীর প্রতি আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে। নদী বিচ্ছিন্ন কোনো প্রবাহ নয়। একটি নদীর সঠিক প্রবাহের সঙ্গে আরও অনেকগুলো নদীর সংযোগ রয়েছে। জাতীয় নদীর ঘোষণা আসলে সামগ্রিকভাবে তা বাংলাদেশের সব নদীর প্রতিই মনোযোগ দেওয়ার মতো ব্যাপার হবে। আমাদের নদীগুলোকে স্বাস্থ্যবান করতে হলে নানামুখী উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। নদী সম্পর্কে নাগরিকদের যত বেশি সচেতন ও সংবেদনশীল করে তোলা যাবে আমাদের দেশের নদীর জন্য ততই তা উপকারী হবে। নদীর জন্য কিছু একটা করার মাধ্যমে নদীপ্রীতি নির্মাণ করতে পারেন সবাই। নদী আমাদের অনেক কিছুই দিয়েছে। বিপরীতে আমরা নদীর প্রতি কিরূপ মনোভাব রাখছি কিংবা কিরূপ আচরণ করছি, তা নিয়ে ভাবতে হবে এখনই। তবে কোনো নদীকে জাতীয় ঘোষণাই শেষ কথা নয়; আসল হচ্ছে কাজ করা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য যে বিষয়টি কঠিন হতে পারে তা হচ্ছে, কোন নদীকে 'জাতীয়' ঘোষণা করা হবে? কারণ আমাদের নদীগুলো ছড়িয়ে আছে জালের মতো। আক্ষরিক অর্থেই। কর্ণফুলীর মতো দু'একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় প্রত্যেকটি নদী কোনো না কোনোভাবে আরেকটির সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বে আরও বদ্বীপ অববাহিকা আছে- অনেক বড় আমাজন কিংবা ঘরের পাশে ইরাবতি। কিন্তু গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার মতো তিনটি প্রধান নদী এক মোহনায় এসে মিশেছে- এমন দৃষ্টান্ত আর দ্বিতীয়টি নেই। জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রবাহগুলো এ তিনটি বৃহৎ নদীধারারই শাখা-প্রশাখা কিংবা শিকড়। কোনটা ছেড়ে কোনটিকে স্বতন্ত্র ধরে 'জাতীয় নদী' ঘোষণা করা হবে? ভারত ও পাকিস্তান তাদের প্রধান প্রবাহ যথাক্রমে গঙ্গা ও সিল্পুব্দকে জাতীয় নদী ঘোষণা করেছে। আমাদের প্রধান তিনটি নদী- পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা কি এমন মর্যাদা পেতে পারে? মুশকিল হচ্ছে, তিনটি নদীর উৎপত্তিই আমাদের দেশের বাইরে। পদ্মা তো গঙ্গারই অপর নাম। যমুনাও বিভিন্ন নামে- সাং পো, ডিহং; ব্রহ্মপুত্র- তিব্বত, অরুণাচল, আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বরাক নদীর বিভক্ত ধারা সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ফের মিলিত হয়েই মেঘনা নাম ধারণ করেছে। তারপরও মেঘনাকে এগিয়ে রাখা যায়। কারণ দেশীয় প্রবাহ পথের দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এটা সবচেয়ে বড় এবং মোহনার কাছে দেশের প্রায় সব নদীকে ধারণ করে সাগরে মিশেছে। এছাড়া রয়েছে কর্ণফুলী; খাগড়াছড়ির দীঘিনালার পাহাড়ি অঞ্চলে উৎপন্ন ১৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ নদীতে যদিও অতি সামান্য পরিমাণে সীমান্তের ওপারের পানি মিশেছে, তা ধর্তব্য নয়। যে কারণে ৫৭ আন্তর্জাতিক নদীর তালিকায় কর্ণফুলীর নাম নেই। বিতর্ক এড়ানোর জন্য আমরা ভারতের বদলে মার্কিন মডেলের অনুসরণে একাধিক জাতীয় নদীও ঘোষণা করতে পারি। তবে মেঘনা হলো আমাদের দেশে একমাত্র নদী যে নদী একাত্তরের সেই ভয়াল দিনগুলোতে এঁকে বেঁকে করেছে উপকার। দিয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ অর্জনের সুযোগ। এই নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে অসংখ্য হায়েনাসম পাক মিলিটারি। এছাড়াও আমরা কবি সিকান্দার আবু জাফরের কবিতায় ডুবসাঁতার দিলে দেখবো-যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা-গৌরী যমুনা বহমান...
অতএব, মেঘনা শুধু ইতিহাসেই নয়; উঠে এসেছে কবিতার পঙতিতে পঙতিতে। সেই মেঘনা জাতীয় নদী হলেই সচেতনতার জন্য মানুষ নিজেরা নিজেরাই ক্যাম্পইন করবে। বাড়াবে সচেতনতা। কমবে দখল আর দূষন কার্যক্রম। প্রত্যয়ী ভোর আসে দখিনের জানালা খুলে। সেই খোলা জানালায় চোখ রাখলেও ভেসে উঠবে মেঘনার রুপালী দেহ। যেখানে লোভাতুর আনন্দ খেলে যায় ঢেউয়ের সাথে সাথে...


ভুলের এমন দেবতা স্বভাব এবং কবিতার যাযাবর কচি রেজা
মোমিন মেহেদী
জীবনের পথ ধরে বহুদূর হেটে যাওয়ার বাসনা থাকলেও আমাদের পায়ের সামনে মাটি গরগর আওয়াজে ফাটতে শুরু করলে আমরা পেছন ফিরে বাড়ির দিকে ছুট লাগাই। কতক্ষণ বা কতোটা প্রহর এভাবে ছুটতে পারবো জানি না। বাঁধাভাঙা উচ্ছাসের শেষে দুষ্টু বালকের দল যেমন পরিশ্রান্ত ও নিথর হয়ে আসে, আমরা অনুভব করি প্রকৃতি এখন সেরকম পরিশ্রান্ত। খেলাটি শেষ হয়েছে এবং এখন সে ঘুমোবে। বাতাস নিথর, উপড়ানো গাছের ডালপালা ও ডোবার কাদাপানি পর্যন্ত নিথর। সেই নিথর কাদাপানির মধ্যে প্রবীণ ও মৃত সারসের সাথে টেকো মাথার ডেভোলাপাররা চমৎকার সিলুয়েট হয়ে ঘুমিয়ে পড়লো দেখে আমরা নিশ্চল হয়ে পড়ি। ডোবার অদূরে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে দৃশ্যটির দর্শক হওয়ার ক্লান্তিতে আমাদের ঘুম পায়। অতঃপর আমরা মন্থর পায়ে ডোবায় নামি এবং ঘুমন্ত সারস ও ডেভোলাপারদের পাশে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। এভাবেই কেটে যায় কবির কথনসময়। কেটে যায় অবসর প্রসন্ন বিকেলের কথা কথা আলো। সেই আলো পার হয়ে আসে অন্ধকারের পদাবলী। চাঁদ হয় পদাবলীর জনক, কবি তখন ছুটি কাটায় নারীর আঁচলে। মায়াবী জোৎস্নায় জাল বোনে ঠোঁট। এই জালে বন্দী হয় কবি, কবিতা আর কবিতার মগ্ন পাঠক। ভুলের এমন দেবতা স্বভাব। বুঝতে পারেন কবিদের কেউ কেউ। যারা বুঝতে পারেন তারা ছাড়িয়ে যান পৃথিবীর লোভ, বিলাস, ভোগ; সবকিছুকে। সবার উপরে কবি জায়গা করে নিতে পারে, যদি সে হয় লালন বা হাসনের মত অন্যরকম ভালোবাসার কাঙাল। কবিদের মধ্যে এই সাধনার সাধক হাতে গোনা কয়েকজন। বিশেষ করে আমাদের দেশে। সেই তালিকাটা মাঝে মাঝে বড় হয়, আবার মাঝে মাঝে ছোট হতে হতে শূণ্যে মিলিয়ে যায়। তারপর একটা হিসেবের হালখাতা খুলতেই হয়। সেই হালখাতায় উঠে আসে কবি রফিক আজাদ, কাজী রোজী, আসাদ চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, রেজাউদ্দিন স্টালিন, হাসান হাফিজ, জরিনা আখতার, নাসির আহমেদ, দীপংকর গৌতম, জামিল আখতার বীনু, টোকন ঠাকুর, জগলুল হায়দার, সেলিনা শিরিন শিকদার, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, বদরুল হায়দার, মনসুর হেলাল, কচি রেজা, সৈকত হাবিব, হাসান মাহমুদ, ফারুক আফিনদী প্রমুখের নাম। যাদের কাছে কবিতাই বিবেকের পাঠশালা, কবিতাই সংসার।
সেই তাদের মধ্য থেকে কবি কচি রেজাকে ‘ভুলের এমন দেবতা স্বভাব’ উচ্চারণের জন্য নির্বাচিত করা যায় সৌন্দর্যশীল কাব্যজীবনের জন্য। যেখানে তিনি বলেছেন ভালোবাসা, ভালোলাগা আর সাহসমাখা কথাগুলো সৃজনমায়ায়। এই উচ্চারণ কালের চাকায় পিষ্ট হতে হতেও বলবে সময়ের সাহসকথা। তার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যায় কবির কবিতাচল। এই আঁচলে কবি বেঁধেছেন জীবনচাবি-
এই যে ভেঙে যাবার শব্দ তাতে আমি জীবনের কাছে
ক্ষতি পূরণ চাইতে পারি!
মুখ কি আমার নিরানন্দতার অভিব্যক্তি
আর ভেঙে যাবার শব্দ প্রতিবাদ?
তুমিও আর কতদিন এই নিষ্ফল প্রবাদ মেনে জীবনকাটাবে!
বৃক্ষের স্বাস্থ্য দেখেও তো বুঝতে পার ক্ষুন্নিবৃত্তি হয়েছে কী-না,
এখন যে অন্ধকার আমাকে বিদ্ধ করে প্রকৃতই সে এক
নির্মম তৈলপাত্র!
(এখন কোন আলো নেই)
মাটিকে কখনো পতিত ফেলে রাখতে নেই। যা-কিছু পতিত বা অ-ব্যবহারযোগ্য তার মধ্যে সভ্যতা চাষ করার নাম হলো প্রগতি। পতিতকে সচল-সক্রিয় না-করলে সে তার জড়ত্বের অভিশাপে প্রথমে মানুষকে খায়, তারপর নিজেকে খায়। আর মাটি গ্রাস হলে সভ্যতা থমকে যায়। মানুষের প্রগতি থেমে থাকে। প্রগতি থেমে গেলে নতুন মানুষরা তখন জন্ম নিতে পারে না। কথাগুলো যেমন সত্য, তেমন পালনিয়। মানুেষর জন্ম সুরক্ষণে নিয়োজিত মানুষদের তাই তাপমাত্রার অসহনীয় বাড়াবাড়ি উপেক্ষা করে জানালার শিক গলে বাড়ির পেছনদিকে নেমে পড়ে। আমরা তাদের অনুগমন করতে বাধ্য হই। কেননা আমাদের এরকম মনে হতে থাকে তাপভারে জর্জরিত দিনটি অসহ্য এবং সনাতন বিশ্বাস আঁকড়ে জড়প্রতিমার মতো স্থবির বাড়িটির সংস্কার ব্যতীত আজকের এই দুঃসহ উত্তাপের প্রশমন ঘটবে না। শাস্ত্রে বলে ‘মানুষ ঘটনার দাস। ঘটনা তাকে এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানের দিকে নিয়ে যায় এবং এভাবে একদিন সে তার মোক্ষ বা পরিণামকে বুঝে ফেলে।’ এই শাস্ত্র-বচনের ওপর আস্থা রেখে আসুন আমরা কবিমানুষদেরকে অনুসরণ করি ... আমাদের ভয়কে তীব্র করার জন্যই বোধহয় জীবনের পুরনো বাড়িটিতে মাঝেমধ্যে বানরকুলের আবির্ভাব ঘটে। গাছপালার ডালে তীব্র আলোড়ন তুলে ওরা আসে। বাড়ির ছাদ ও কার্নিশে তুমুল হল্লা পাকায়। বেজি ও ভীমরুলের চাক এতে ক্ষণিকের জন্য চঞ্চল হয় বটে, কিন্তু বানরদল যেমন অকস্মাৎ আসে তেমনি কিছু বুঝে ওঠার আগে প্রস্থান করে। এই আবির্ভাব এক অশনি ইঙ্গিত হয়ে আমাদের বুকে কাঁপন ধরায়। পত্তনীদার হওয়ার জবরদস্ত লোভটিকে দমন করে মনে-মনে ভাবি ‘যে-মাটি বনবাদারের গ্রাসে লাগে তাকে আবাদ করার মতো বুকের পাটা আমাদের নেই। গরিব-গুর্বোর ঝুপড়িঘরে ঋণ শোধের তাগাদা দিতে আমরা সিদ্ধহস্ত হতে পারি কিন্তু এই বন্য মাটির বুকে দখলিস্বত্ব কায়েম আমাদের কাজ নয়। বুনো মাটির অনাবাদি পিণ্ডরা চাষা ও জমিদারের অপেক্ষা করে। নিদেনপক্ষে সে এমন কোনো পত্তনীদারের বশীভূত হয় যার কাছে মাটি হচ্ছে সন্তানের চেয়ে খাঁটি। সন্তান বিশ্বাসঘাতক হতে পারে, কিন্তু মাটি অবিশ্বাসী হয় না। সে তার মনিবের লাঙলের গোলাম। যেহেতু তা নই, শুকনো মরিচ দিয়ে বানানো মাতুয়ার ভর্তায় জিভ ও টাকরার সুরসুরি চুকিয়ে ফল-সঞ্চয়ী কাঠবেড়ালি ও সারস পাখির পাখা ঝাপটানোর দর্শক হওয়ার মাঝে নিজের বাসনাকে সীমাবদ্ধ রাখি আমরা। সেই আমাদের আবার অনেকরকম ভাবনাবিলাস। এই ভাবনাবিলাসীদেও বাইওে নন কবি কচি রেজাও। তিনি ভাবতে ভাবতে পথ হাটেন। ভাবতে ভাবতে মত কাটেন কবিতার হীরকখন্ডে। মত কাটতে কাটতে তিনি লিখেছেন-
জগতের সত্যি কথার আঙুল কি কেটে গেছে, ডাইনির হিংসা যে ভালো
গাছগুলোকে নিমগাছ কওে রেখে দেয় তুমি কি সেই ফুলমুখী গাছ
দেখেছো?
গারাদিন আমি মিথ্যে কথা বলি সে গাছগুলোর সঙ্গে,
বাঁশখড়কাঠের মৃত দেহের মিথ্যাই সূর্যমুখী ফুল, আমি জানি জগতে
উনুনগুলোও মিথ্যে কথা বলে, আর আগুনতো পোড়াকপাল নিয়েই
জন্মেছে
সেদিন থেকেতেলেপুড়ে থাকা নিমগাছকে আমি সমানভাবে রোদ দেই
( খোড়ো ঘরগুলোর শপথ)
ভুলের এমন দেবতা স্বভাব। কবি কচি রেজার অবাধ সাঁতার কাটা দুপুরের সবুজ পুকুর। এই পুকুরে তিনি সাঁতার কেটেছেন অনবদ্য বালিকা হয়ে। যে বালিকার কোন পিছু টান নেই। নেই পিছে ফিওে যায়ার সুপ্ত বাসনাও। নিদ্রা ও জাগরণের চক্রাকার বর্তুল ওয়ারিশানদের ভাগ্যে কোনো ফল বয়ে আনছে না দেখে জলা-জঙ্গলায় পতিত বাড়িটি দরদামের দুনিয়ায় সকলের চোখের সামনে আশ্চর্য সুঠামতা নিয়ে বহাল রয়ে যায়। ঋতু থেকে ঋতু এভাবে ঘুরে চলে আর জলা-জঙ্গলারা মিলে বাড়িটির দফারফা করে। না-ডোবা না-পুষ্কুরনিটি ততদিনে নিরেট ডোবায় পরিণত হয়েছে। আবাদের অভিধানে বলে, ‘মানুষ যেখানে পা রাখে না সেখানে বন-বাদার হচ্ছে স্রমাট।’ বন-বাদারের দঙ্গলে একমাত্র মানুষটি, নদী যাকে অনেক কাল আগে নিঃস্ব করে দিয়েছে, সেই লোকটি ততোদিনে প্রায় বুনো হয়ে উঠেছে! যুগবদলের হাওয়ায় বানভাসী বনচরটিকে মানুষ গণ্য করা যায় কিনা সে-তর্ক তাই অনায়াসে চলতে পারে! বাড়ি থেকে কিছু দূর হাঁটলে শহরকে পড়া যায়। মোটরকার আসে-যায়, চওড়া দর-দালানে পালিশকরা সায়েব-মেম এলিভেটর বেয়ে ওঠে-নামে, সিনেমার নায়িকা তার বিরাট নিতম্বের আলোড়নে তরুন নায়কের বালেগদের কামনায় বধির করে, আর উড়োজাহাজের সাঁই-সাঁই শব্দে চকিত কাকেদের দল প্রতিটি বাড়ির ছাদ ও ময়লা-ফেলার ড্রামে তাদের কর্কশ ঠোঁট ঠোকরায়..., এইসব দৃশ্যচিত্রের মধ্যে বাড়িটি মেরুবিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো একলা পড়ে থাকে সারাদিন। দ্বীপের একমাত্র রবিনসন ক্রুসো হচ্ছে বানভাসি পাহারাদার। প্রতিদিনের খাই-খরচার বাইরে এইসব প্রলোভনের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ যেন নেই। ওয়ারিশনরা বিদেশ থেকে যে খোরাকি পাঠায় তাতে তার দিন চলে না, পুরনো প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে এটা-ওটা সাহায্য করে, কিন্তু তা দু’বেলা স্বচ্ছল হবার মতো নিয়মিত নয়। দিনযাপনের টানাটানি তাকে বিশেষ বিচলিত করে উঠতে পারে না। এই আকালের বাজারে ইচ্ছে করলে এখনো ডোবা থেকে সে মাছ উঠাতে পারে, সারসের মাংসে মুখগহ্বরকে সুপক্ক ঘ্রাণের মদিরা দিতে পারে,-কিন্তু মাছ সে ওঠায় না, সারসকুলের দঙ্গলে গুলতির ঢিল ছোঁড়ে না। জীবনের যে-দশায় পেয়ে বসলে মানুষ অক্রিয়তাকে জীবন গণ্য করে, পাহারাদার সেভাবে দিন গুনে চলে ও পাকানো দড়ির মতো শীর্ণ হয়। আমাদের জীবনবোধ বলে, ভালোবাসা না পেলেই মানুষ যাযাবর হয়। সেই যাযাবরদের কেউ কেউ মনে মনে, কেউ কেউ বাস্তবতার অমোঘস্রোতে। কবি কচি রেজা মনে মনে যাযাবর। তার কবিতা উঠে এসেছে সেই যাযাবরকথন-
নিজের মুখ আয়নায় দেখে অন্ধ হয়ে যায় নদী, যারা যাওয়ার আগেই
ফেরার কথা ভাবে তারা বুঝতে পারে মাছের ইশারা!
ঈাথরের প্রতিধ্বনি শুনে পৃখিবী বুঝে ফেলে আগামীর দুঃসংবাদ,
তাই বাঁশির কথা ভেবে তুমি যখন বেড়ালের নূপুর পরে নাচো-
ছায়ায় ছায়ায় তখন নিচের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে ঘাস,
(মাছের চোখে ঈশ্বরের বাণী)
প্রবাদে বলে গতির ধাক্কা যেখানে লাগে স্থিরতা সেখানে ঠাঁই করে নিতে পারে না। নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে পত্তনীদারের সাধের পত্তনীর বেঁচে-বর্তে থাকা রহস্যজনক বৈকি। এতে মনুষ্যকুলের কোনো উপকার সাধিত না-হলেও বৃক্ষ বা পশু-পক্ষীর জন্য পত্তনীটি হয়ে উঠেছে এক স্বাধীন অভয়ারণ্য, যেখানে মানুষ ও মোটরকারের তোয়াক্কা না-করে আজোবধি স্বেচ্ছাচারিতা সম্ভব। নারকেল গাছের সারির মাঝখানে ভীমরুল অনায়াসে চাক বাঁধে এখনো। এই মৌচাকে ঘাই দেবার সাধ্যি ভাল্লুক ও মানুষ ছাড়া আর কারো নেই। বাড়িটি যেহেতু অনেক দিন ধরে মনুষ্য ও ভাল্লুক শূন্য, চাকগুলো তাই অবাধে মধুপুষ্পে ভরে উঠতে পেরেছে। আধুনিক পদ্ধতি ছাড়া মধুর নহর বইবার জন্য যে অবসর ও নির্জনতা লাগে, একমাত্র নিবিড়ঘন নিরালায় প্রকৃতি যা সম্ভব করে। বাড়িটি তার আদর্শ ঠিকানা বটে! তবে গতির হল্লা যখন আছড়ে পড়ে তখন চাক রচনাকারী ভীমরুলের আগ্রাসী আক্রমণকে তা অবলীলায় পর্যদুস্ত করে ফেলে। আমরা যে বাড়ি ও শহরকে বর্ণনা করি তার বেলা কথাটি খুব খাটে। পত্তনীদারের মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু যেন একটি আবর্তের মাঝে স্থির হয়ে ঘুরছিল। দুর্গম চরের খ্যাতি চুকিয়ে দেশ ভাগ অব্দি সেই আবর্তে বড়ো কোনো ছন্দপতন ঘটেনি। কেননা তখন পর্যন্ত চরটি আবাদি হয়ে উঠতে পারছিল না। পত্তনীদারের হাতে তার সে-দুর্নাম যখন ঘুচলো, আরেকটি আবর্তে গিয়ে পড়লো সে। অতঃপর আবাদকারীরর মৃত্যু পর্যন্ত ছিল অপেক্ষার পালা। গতির হল্লা তার অস্ত্রে শান দিচ্ছিলো এই ভেবে যে অপেক্ষার পালা একদিন ফুরাবেই; তখন চাক ভেঙে মধুপানের উল্লাসে পুরনো বাড়িটি মানুষের হট্টগোল ও কালো ধোঁয়ায় গমগম করে উঠবে। সেই কালোকে বিদায় জানাতে কবিদের বড় বেশি প্রয়োজন দেশের মাটিতে মায়াবী ফসলের আবাদ করা। মায়ার আঁচলেই থাকতে পারে শান্তির স্রোত। অন্য কোথাও না। সেই কথা ভেবে হলেও নেমে যেতে হবে কবিতার জলে। হোক না এবার গঙ্গাস্নানের পরিবর্তে নতুন করে কাব্যস্নান। সেই স্নান আর যাই হোক মনের কালিমা দূর করে দেবে, সাহসবতী রোদ-উল্লাস। এই উল্লাসের ধারাবাহিকতায় আমাদেও দেশেও আসতে পাওে চে গুয়েভারা, ফিদেল ক্যাস্ত্রো, কিম ইল সুং, ইমাম খোমেনী, মাও সেতুং অথবা নতুন কোন আলো। যেই আলোর সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাবেনা বর্তমানের অন্ধকার।এই অন্ধকার তাড়ানোর প্রত্যয়ে কচি রেজা লিখেছেন-
স্বাধীনতা মানে ভূখন্ডের দরোজার কাঠ ধাক্কা দিয়ে খুলে নেয় নাকি!
এখন এই এক হাট লোকের সামনে আমাকে স্নান করতে বলো তুমি!
(কাঁটা)
আমাদের নিরিবিলি শহরে সময়ের একটি মাত্রাহীন ছন্দ বা প্রসারণ থাকে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সবকিছু স্থবির হয়ে আছে, কিছু যেন এগুচ্ছে না! কিন্তু দৃশ্যমান সে স্থবিরতার মাঝে শহর তার নিজস্ব ছন্দ-তালে জাগে বা ঘুমায়। এই কাহিনীর শহর সেদিক থেকে ব্যতিক্রম ছিল না। ময়লাটানার ছ্যাকরাগাড়ির শব্দে ঘুম ভাঙতো তার। অতঃপর সারা সকাল শহরটির বুক জুড়ে চলতো অফিসমুখী কেরানি, ভুঁষিমালের আড়তদার আর গৃহিনীদের ব্যস্ত কলরব। সেই কলরব ছাপিয়ে কাকের কর্কশ চিৎকার কানে এলে বোঝা যেতো দুপুর পার হতে চলেছে। দিনের সাংসারিক কাজকর্মে সাময়িক ছেদ টেনে মহিলারা বালিশে মাথা এলিয়ে দিতেন। আধো তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় বিমল মিত্রের নভেল খুলে বসতেন অনেকে। কেউ-বা রেডিওয় শ্রুতিনাটক শুনতে-শুনতে উদাস হয়ে যেতেন, ভাতঘুমের আলস্যে তাদের চোখ বুজে আসতো। অলস-মন্থর প্রবাহে ছেদ ঘটতো ফেরিওয়ালার আবির্ভাবে। ‘ পেপার বেঁচবেন পেপার, পুরান বই পেপার...’
কচি রেজার ষাটটি প্রানবন্ত কবিতার যৌথ আন্দোলনে প্রকাশিত হয়েছে ভুলের এমন দেবতা স্বভাব। রাজিব রায়ের প্রচ্ছদে ৭১ পৃষ্টার এই বইটিপ্রকাশ করেছে ধ্র“বপদ(৬৮-৬৯ প্যারিদাস রোড, ঢাকা)। বইটির মূল্য মাত্র ১২০ টাকা। কবিতার সাথে সাথে সকালের রোদও হাসেপ্রতিদিন। প্রত্যাশারা জোট বাঁধে- কবিতার আয়নায় মুখ রাখুক কবি। কবির মায়াবী মুখে মায়ার রসদ। সেই রসদের সূত্র ধরে আমাদের বর্তমান হয়ে যাক আলোকিত ভোর। এই ভোরে মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে কবিতার উত্তরণ আমাদের উত্তরণ হিসেবে ঘুরে দাড়াবে। প্রত্যয়ী প্রার্থণা ফিরে ফিরে আসবে বিমুগ্ধ মায়াতে...

জামায়াত নেতাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : এগিয়ে আসছে অন্ধকার
মোমিন মেহেদী
দেশ বিরোধী চক্র আমাদের দেশে বরাবরই গড়ে তুলতে চেয়েছিল তাদের মত করে একটি শক্ত বলয়। এই বলয় তৈরির কুৎসিত লক্ষ্যে স্বাধীনতার পর থেকেই তারা গড়ে তুলতে থাকে ইসলামী ব্যাংক. ইসলামী কিন্ডার গার্ডেন, ইসলামী হাসপাতাল, ইসলামী মার্কেট, ইসলামী কলেজ,আধুনিক প্রকাশনী, ইসলামী লাইব্রেরীসহ বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠান। এককথায় বলা যায় স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের মধ্যে আরেকটি ইসলামী দেশ গড়ে তুলতে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে দেশ বিরোধী এই চক্রটি। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এরা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গড়ে তোলে অসংখ্য ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাদের এই ইসলামী ব্যাংক, হাসপাতাল আর স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করার পেছনে কিন্তু রয়েছে স্বাধীনতার স্বপক্ষেরই সহায়তা। এই সহায়তা নিতে ইসলামী নামধারী একাত্তরের হায়েনারা মোটা অংকের ঘুষ ও পরকালের বেহেশতের লোভ দেখিয়েছে। আর এতেই পরাস্ত হয়েছে একসময়ের বীর যোদ্ধারা। তারা ভুলে গেছে ইসলাম বলেছে, দেশকে ভালোবাসলেই. মানুষকে ভালোবাসলেই বেহেশতে যাওয়া সম্ভব। কেননা, একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক, মানুষ প্রেমিক কখনোই অন্যায় করতে পারেনা; ভুলে যেতে পারে না তার প্রভুর কথা। কথিত ইসলামী ব্যাংকের সাথে স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও হাত মিলিয়েছেন বিভিন্ন সময়। তার জ্বলন্ত প্রমাণ, এবারের বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপে ইসলামী ব্যাংক শুধু মাত্র স্পন্সরের সুযোগ নিতে বিভিন্ন স্তরে ঘুষ দিয়েছে কোটি কোটি টাকা। বিনিময়ে অনুমোদন পেয়েছে, পেয়েছে বাংলাদেশের পতাকার উপরে পাকিস্তানের পতাকা টাঙানোর সুযোগটিও। আমাদের দেশে এত ব্যাংক থাকতে ইসলামী ব্যাংক স্পন্সর করে বিশ্বকাপ খেলার। যেখানে স্বাধীনতার স্বপক্ষের কথা বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা উঠিয়ে ফেলছে বর্তমান সরকার ও সরকারের মন্ত্রী আমলারা। তারপরও সারাদেশে জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে তাদের মত করে শিক্ষা প্রদান। তাদের শিক্ষা প্রুিতষ্ঠান গুলোর মধ্যে রয়েছে আল মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়( প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান উপাচার্য সরাসরি জামায়াত ইসলামের রাজনীতির সাথে জড়িত), ইসলামী ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজ, আল আরাবী স্কুল এন্ড কলেজ, কেয়ারী স্কুল, আল হেরা একাডেমী, আল ফারুক একাডেমী, আল ইসলাম একাডেমী, সাইমুম কিন্ডার গার্ডেন, প্রতিভা স্কুল এন্ড কলেজ, টাইফুন একাডেমী, আল সিদ্দিক একাডেমীসহ প্রায় ৩ হাজার ছোট বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার আড়ালে তাদের পরিচালিত কিন্ডার গার্টেন, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় চলছে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদী আদর্শের প্রচার। শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাসবহির্ভূত ও স্বাধীনতা পরিপন্থী পাঠ্যসূচি অনুশীলন করা হচ্ছে। চলছে গোপন রাজনীতিক কার্যক্রম। পালন করা হচ্ছে না জাতীয় দিবস। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠ করানো হচ্ছে উগ্র ধর্মীয় শপথবাক্য। তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানসিকতা গড়ে তোলারও অভিযোগও রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চার দলীয় জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ এবং পরপর দুইবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে। আর এই সময়গুলোতে এইসব দেশবিরোধী শিক্ষাকার্যক্রম গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন নিজেদের অৎান্তেই অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের ব্যাক্তিত্ব। যাদের পৃষ্টপোষকতায় জামায়াত-শিবির-দেশবিরোধী চক্র তাদের ঘৃণ্য এই ষড়যন্ত্রের কারখানা গড়ে তুলতে পেরেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বি চৌধুরী, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, ইয়াজউদ্দিন, আব্দুল মান্নান ভূইয়া, আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বঙ্গবীর, মওদুদ আহমেদ, ড. ওসমান ফারুক, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ। তাদের সহায়তায় প্রত্যক্ষ গনমানুষের নাকের ডগায় গড়ে উঠেছিল এই দেশ বিরোধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। যেখানে প্রতিনিয়ত দেয়া হয় ধক্ষংসের শিক্ষা। যদিও সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জামায়াত নেতাদের তালিকা, তাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নিরুপণসহ যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সরকারের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কারিগরি ও মাদ্রাসা) কেএম মোজাম্মেল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সরকারের কাছে জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন তালিকা নেই। গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা প্রশাসন ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হবে। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানে সরকার স্বীকৃত পাঠ্যসূচি অনুশীলন করা হচ্ছে না। এছাড়াও জামায়াত নেতাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আছে নানা অভিযোগ। ছাত্র শিবিরের প্রথম সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম আলী, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কামারুজ্জামান, আবুল আসাদ, অধ্যাপক মতিউর রহমান, শাহ আব্দুল হান্নান, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানসহ অসংখ্য জামায়াত-শিবির- দেশদ্রোহী সংগঠনের নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২১ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের বেলায় দেখা গেছে শূণ্যের চিহ্ন। কেননা, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মহাজোট সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুপটি মেরে আছে একাত্তরের প্রেতাত্মাা আর জামায়াত-শিবিরের পালিত পশুরা। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এরও অনেক আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২০তম সভায় জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছিল। মাউশি'র মহাপরিচালক প্রফেসর নোমান-উর রশীদ সংবাদমাধ্যমকে সম্প্রতি জানিয়েছেন, জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি সংক্রান্ত কোন নির্দেশনাপত্র তিনি এখনো হাতে পাননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় সে বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা নেই। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এগুলো চিহ্নিত করা যেতে পারে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাস অনুসরণ করতে বাধ্য। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানে সরকার নানাভাবে অনুদানও দিচ্ছে। সিলেবাস বহির্ভূতভাবে জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে 'ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি'র রচিত প্রায় ৫ শতাধিক সহায়ক বই। ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং জামায়াতের কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নেতা মীর কাসেম আলীই এ সংস্থাটির মালিক। রাজধানীর খিলগাঁওয়ে কোয়ালিটি এডুকেশন স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের পড়ানো হচ্ছে ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির রচিত শিশুদের সাধারণ জ্ঞান, হাতের লেখা সুন্দর করি এবং দিগন্ত প্রকাশনীর রচিত ছোটদের আরবি ও ইসলামী শিক্ষা। এসব বই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত নয়। এছাড়াও অনুমোদনহীন সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তথ্য সম্পর্কে। অনুমোদনহীন সহায়ক গ্রন্থ পাঠদান করার বিষয়ে কোয়ালিটি এডুকেশন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলী আসগরের সাথে একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে কলেজের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ (খিলগাঁও থানা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি) ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে কলেজে দু'দিন গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এই হলো অবস্থা আমাদের দেশের। যেখানে টাকার বিনিময়ে অনুমোদন পায় দেশ বিরোধী চক্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর পার পেয়ে যায় টাকার বিনিময়েই। কিন্তু কারা পার পাইয়ে দিচ্ছেন তা কেউ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন মনে করেননা; পাছে আবার তার কমিশন বন্ধ হয়ে যায়। খিলগাঁও থানার গোড়ানে আল রাজী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতি শ্রেণীতে শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির কমপক্ষে ৩টি করে অনুমোদনহীন সহায়ক বই পাঠদান করা হচ্ছে। এনসিটিবি'র অনুমোদন ছাড়াই কিন্ডার গার্টেন ও প্রথম শ্রেণীসহ সব শ্রেণীতেই দিগন্ত প্রকাশনী ও ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির একাধিক ধর্মীয় বই পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর শিশুদের অনুমোদনহীন সহায়ক বই পড়ানোর বিষয়ে আল রাজী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালক কামাল হোসেন একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ঢাকা শহরের প্রায় সব স্কুলেই অনুমোদনহীন বই পড়ানো হচ্ছে। তাই কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের অনুমোদন নিয়ে আমরাও তা করছি। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন কী না জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ২৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। জামায়াত জাল বিছিয়ে রেখেছে আমাদের চারপাশে। এই জালে আটকা পড়ছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের অসংখ্য বাবা-মায়ের সন্তান। তারা গড়ে উঠছে দেশবিরোধীদের মন-মাসষিকতা নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে এখনই না ভাবলে দেশের নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ হয়ে উঠবে নিজেদের অজান্তেই একাত্তরের প্রেতাত্মা। এই প্রেতাত্মাা তৈরির কারখানা বন্ধের এখনই মূখ্য সময়। এখনই ইসলামী শিক্ষার নামে ইসলামী ব্যবসায়ী দেশবিরোধী চক্রের অপশিক্ষা-কুশিক্ষা বন্ধ না করা হলে আমরা অনতি বিলম্বে ডুবে যাব অন্ধকারের গভীর কালোতে। জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা পরিপন্থী গল্প, কবিতা,গদ্য পাঠদান করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। বিকৃত ইতিহাস ও বিভ্রান্তিমূলক পাঠ্যসূচি পাঠদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সারাদেশের জামায়াত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার একটি প্রস্তাবও রইলো স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকারের প্রতি। ওরা যদি এভাবে আমাদের আগামীকে অন্ধকারের কালোতে ঢেকে দিতে থাকে তাহলে একটা সময় দেখা যাবে, ঘরে ঘরে একাত্তরের হায়েনা গোলাম আযমদের সমর্থক গোষ্ঠি। এই লক্ষ্য থেকে গোয়েন্দা নজরদারি করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, এটাই এখন দেখার বিষয়। সন্দেহ পোষন করছি এজন্য যে, এই জায়গাটিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের পোশাক পড়ে ঘুপটি মেরে আছে হায়েনাদের দোসররা। যে দোসররা স্বাধীনতার পর থেকেই স্বাধীনতা বিরোধী- দেশ বিরোধী চক্রকে দিয়ে এসেছে বিভিন্ন রকম সহায়তা। এই সহায়তার ডানায় ভর করেই জামায়াত নেতাদের প্রত্যক্ষ ব্যবস্থাপনায় কেবল রাজধানীতেই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। তারা নিজেদের, কিন্ডার গার্টেন, স্কুল ও কলেজের নামের সঙ্গে আল রাজী, ন্যাশনাল আইডিয়াল, কোয়ালিটি এডুকেশন, আল হেরা ট্রাস্ট, মানারত, অক্সফোর্ড, সিটি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু বাহারি শব্দ জুড়ে দিয়ে শিক্ষা বিস্তারের নামে বাণিজ্যে লিপ্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার বিষয়ে যথাযথভাবে উদ্ধুদ্ধ না করে সিলেবাসবহির্ভূত ধর্মীয় শিক্ষার নামে জঙ্গীবাদ শিক্ষার ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাঠদান করা হচ্ছে বিতর্কিত মাওলানা মওদুদীর জীবন বৃত্তান্ত। প্রতিটি শ্রেণীতে বোর্ডের সিলেবাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ১টি করে ধর্মীয় বিষয় পাঠদান করানো হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত শিক্ষার নামে নিয়মিত জামায়াতের অঙ্গ-সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে উগ্র ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক ও পশ্চাৎমুখী সিলেবাস অনুসরণ করা হচ্ছে, যা নিয়ে ভাবতে হবে এখনই। এই সময়টা কেবলমাত্র স্বাধীনতার স্বপক্ষের, কেবলমাত্র ‘যার যার ধর্ম তার তার’-এর। এই সময়ে কেউ কারো উপর ধর্ম ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে পারবে না। চাপিয়ে দিতে পারবেনা ধর্মের নামে অধর্মীয় জঙ্গীবাদী শিক্ষা...

অ্যান্টিবায়োটিক অপপ্রয়োগ : সরে যাক উদাসি মেঘ
মোমিন মেহেদী
অ্যান্টিবায়োটিক অপপ্রয়োগ চলে আসছে স্বাধীনতার পর থেকে। চিকিৎসার নামে একশ্রেণীর অসৎ চিকিৎসক ঢালাওভাবে লিখে দিতে শুরু করে অ্যান্টিবায়োটিকের নাম। তারই সূত্র ধরে একদিকে মানুষ গুণতে থাকে বড় অংশের গচ্চার টাকা। অন্যদিকে ভুল চিকিৎসার খেসারতমাখা সময়। যদিও ১৯৮৫ সাল থেকে অ্যালায়েন্স ফর প্রুডেন্ট ইউজ অফ অ্যান্টিবায়োটিক নামক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের অপপ্রয়োগ রোধে কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ গত ২০০৫ সালে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করে। তারপরও চিকিৎসা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগের সেই প্রস্তাবনাটি অকার্যকর রয়ে গেছে। তাছাড়া বিএসএমএমইউ প্রণীত অ্যান্টিবায়োটিক নির্দেশিকা সম্পর্কে অনেক চিকিৎসকই অবগত নন। তারা অনেকেই জানেন না একেকটি অ্যান্টিবায়োটিক একেকটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়। কোন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করেছে তা রক্তের টিস্যু-কালচার করে দেখে সে অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে। সাধারণত রোগীর দৈহিক ওজনের প্রতি কেজির বিপরীতে ২০ মিলিগ্রাম হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ নির্ধারণ করা হয়। দেশে বিভিন্ন মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়। ডাক্তার অবশ্যই রোগীর দৈহিক ওজন দেখে এবং যে ওষুধটি চিকিৎসাপত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে তার পরিমাণ দেখে প্রতিদিন কয়টা করে ওষুধ কত দিনের জন্য খেতে হবে তা নির্ধারণ করে দেবেন। রোগীকে এই হিসেব অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এ নিয়মের বাইরে একদমই যাওয়া যাবে না। সাধারণত সার্জারির ক্ষত, যক্ষ্মা, ঠান্ডাজনিত কানের ক্ষত, নিউমোনিয়া, ব্যাকটেরিয়াঘটিত ফুড পয়জনিং, সিফিলিস রোগের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। কারণ দেহের ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে, ভাইরাস বা ছত্রাক নয়। অন্যদিকে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত সংক্রমণ যেমন সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা, ঠোঁটের ঘা ভাইরাসের কারণে হয়। এ সময় এন্টিভাইরাল সেবন করতে হয়। একটি ব্যবস্থাপত্রে তিন বা তিনের অধিক ওষুধ (পলিফার্মেসি) থাকলে নানা ধরনের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধিতে বলা আছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর নিউমোনিয়া নিরাময়ে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা যাবে না। শিশুদের চিকিৎসায় সবসময় অ্যান্টিবায়োটিক কম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া আছে। অথচ প্রেসক্রিপশনে বেশি ওষুধের উপস্থিতি রোগীর চিকিৎসার প্রতি আস্থা বাড়ায়, এমন ধারণা থেকে অনেক চিকিৎসক চিকিৎসাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ লিখে থাকেন। এছাড়া কিছু চিকিৎসক তাদের অনভিজ্ঞতা ও অবহেলায় রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে বা সংক্রামক রোগে দ্রুত ভালো হতে ঢালাওভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। যা কেবল শারিরিকভাপবেই ক্ষতিকারক নয়; আর্থিকভাবেও ক্ষতিকারক। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রতিটি ওষুধেরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে এবং বেশি ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হয়। অনেক চিকিৎসক ওষুধ প্রয়োগের নিয়ম মেনে চলেন না। বেশি ওষুধের কারণে চিকিৎসাব্যয়ও বেড়ে যায়। অনেক সময় চিকিৎসাপত্রে উল্লেখ না থাকলেও বিক্রেতারা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ওষুধের অপপ্রয়োগ; প্রতিবছর গচ্চা সাড়ে ৭শ' কোটি টাকা। আমাদের এই সময়ের একজন তুখোর সাংবাদিক সেবিকা দেবনাথের লেখা এই সংবাদটি সরকারের চোখ খুলে দেয়ার চেষ্টা করলেও খোলেনি সরকার ও সংশ্লিষ্টদের বন্ধ চোখ। যে কারনে ধারাবাহিকতা অব্যহত আছে। অব্যহত আছে কোটি কোটি টাকা গচ্চার অংকটিও। আমাদের এই উন্নয়নশীল, দারিদ্রসীমার নিচে থাকা কোটি কোটি মানুষের দেশে দেশে প্রতিবছর ওষুধের জন্য ব্যয় হয় ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য ১৫শ' কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অর্ধেক ওষুধই ব্যবহৃত হয় অপপ্রয়োগে। ফলে প্রতি বছর সাড়ে ৭শ' কোটি গচ্চা যাচ্ছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে এবং দ্রুত আরোগ্যলাভের আশ্বাসে বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ ঠকছে প্রতিনিয়ত। বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে রোগীদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। দোকানিরাও অবাধে রোগীদের মধ্যে ওষুধ সরবরাহ করে, ফলে শুধু ওষুধ কোম্পানি ও নিজেদের লাভের আশোয় তারা না জেনেই পেটে অসুুখ হলে রোগীকে দিচ্ছে লুমিফ্লক্স নামক অ্যান্টিবায়োটিক। এতে রোগীর পেটব্যথা তো সেড়ে উঠছেই না, দেখা দিচ্ছে অন্যান্য উপসর্গ। গচ্চা যাচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রকাশিত 'অ্যান্টিবায়োটিক গাইড'-এ উল্লেখ আছে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগ বা ভুল ব্যবহারে ব্যক্তি ও সমাজকে বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে। জাতীয়ভাবে বছরে ওষুধের জন্য যে খরচ হয়, তার অর্ধেকই ব্যয় হয় অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীব্যাপী যত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয় তার শতকরা ৫০ ভাগই ভুলভাবে প্রেসক্রাইব ও বিক্রি করা হয়। প্রেসক্রাইব করা এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫০ ভাগ রোগীই ভুলভাবে অ্যান্টিবায়টিক গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও এ ওষুধ ব্যাপকভাবে অপপ্রয়োগ হয়ে থাকে। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯-১০ সালে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে তিনটির অধিক ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লেখার প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। অথচ দশ বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। পাড়া-মহল্লার ফার্মেসির বিক্রেতারাই রোগীদের সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শতকরা ৬০ ভাগ মানুষ ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শ শুনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করে থাকেন। এর পরের অবস্থানে আছে শহরের ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো। বিভিন্ন ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে আসা রোগীদের চিকিৎসকদের দেয়া ব্যবস্থাপত্রগুলোর শতকরা ৭০ শতাংশেই অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহারের নির্দেশনা থাকে। এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে সেফালেক্সিন, পেনিসিলিন, সেফট্রাজিডিম, ক্লক্সাসিলিন, সালফামেথক্সাজল, ট্রাইমেথপ্রিম, অ্যামক্সিসিলিন, সেফুরক্সিম, ক্লেভুলানেট, ফ্লুক্লক্রাসিলিন প্রভৃতি। ওষুধ বিক্রেতাদের মতে, অন্যান্য ওষুধের তুলনায় তাদের অ্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের ওষুধ বিক্রির হার বেশি। আর এই সুযোগে স্কয়ার, এরিস্টোফার্মা, অপসোনিন, এসিআই, গ্ল্যাক্সো, বেক্সিমকো কোম্পানির মতো ভালো মানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অখ্যাত কিছু প্রতিষ্ঠান মানহীন ওষুধ বাজারে ছাড়ছে। অধিক লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা এগুলো মজুদ করছে। একই সঙ্গে এক শ্রেণীর অসাধু চিকিৎসক আর্থিকসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিয়ে নিম্নমানের ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখছে বলেও জানান বিক্রেতারা। অ্যান্টিবায়োটিকের অপপ্রয়োগে তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যায়- উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, অতিমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণে কিডনি বিকল, হৃদরোগ, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাসসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। এমন একটি সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ। কারন উদাসিন সরকার, উদাসিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও আমলারা। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলার জন্য নির্দিষ্ট মাত্রায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে যেতে হয়। অ্যান্টিবায়োটিকের রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। মাত্রা সঠিক না হলে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে ব্যাকটেরিয়া রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে টিকে থাকে। ব্যাকটেরিয়া তখন ওষুধ প্রতিরোধী বা রেজিসট্যান্স হয়ে যায়। পরে ওই অ্যান্টিবায়োটিকে রোগী আর সুস্থ হয় না। তখন উচ্চক্ষমতার অথবা নতুন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়। সেখানে চলছে এই বিষয়টি নিয়ে যাচ্ছে তাই অবস্থা। কখনো প্রয়োগ কখনো অপপ্রোয়গ। এভাবেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। যা আমাদের মত একটি অনুন্নত দেশে কিছুদিনের মধ্যেই নিয়ে আসবে বড় ধরনের হুমকি। এই হুমকি রুখে দাঁড়াতে এগিয়ে আসতে হবে স্বয়ং সরকার ও সংশ্লিষ্টদেরকে। একটু পেছনে ফিরে গেলে দেখবো, একসময় ১৯৫৫ সাল থেকে অ্যারিথ্রোমাইসিন, ১৯৮১ সাল থেকে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার শুরু হলে নিউমোনিয়া নিরাময়ে এগুলো খুবই কার্যকর ওষুধ ছিল। কিন্তু এর ঢালাও ব্যবহারে ওষুধের কার্যকারিতা কমেছে। নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়া ওষুধপ্রতিরোধী হওয়ায় এমনটি হচ্ছে। রোগ নির্ণয়ের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসকরা বেশি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ওপর নজরদারির ব্যবস্থা নেই বলে এর অপব্যবহার বেশি হচ্ছে। সবকিছুতেই দরকার প্রশাসনিক নজরদারি। নীতিমালা মেনে চিকিৎসকরা চিকিৎসাপত্র লিখলে অধিক হারে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়ার প্রবণতা কমে আসবে। বিধি হচ্ছে 'সেনসিটিভিটি' পরীক্ষার পর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু রাজধানীর কয়েকটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ছাড়া উপজেলা, জেলা হাসপাতালে সেনসিটিভিটি পরীক্ষার কোন অবকাঠামো বা সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে, গ্রামে এমনকি শহরে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ২০০৯ সালে ঢাকার মিরপুরে আইসিডিডিআরবি পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ রোগীই প্রথমে এলাকার ওষুধের দোকান থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করে। তাদের তথ্যনুযায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগের চিকিৎসায়ও অনেক রোগী অ্যান্টিহিস্টামিন, এসিটামিনোফেন এবং অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করে। অর্থাৎ তারা কেউই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন ওষুধ গ্রহণ করেননি। এই বর্তমান থেকে দূরে সরে আসতে হবে এখনই। তা না হলে সত্যি অন্ধকার নেমে আসবে স্বাস্থ্য বিষয়ক এই জায়গাটিতে। দেশের স্বাস্থ্য নীতিমালা না মেনে দ্রুত রোগ সারানো এবং রোগ নির্ণয়ের কষ্ট এড়ানোর জন্য চিকিৎসকরা চিকিৎসাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবহারের নির্দেশনা এবং ফার্মেসিগুলোতেও অবাধে অ্যান্টিবায়টিক ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। আর দ্রুত সুস্থতার জন্য রোগীরাও অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে উৎসাহী হচ্ছে। চিকিৎসক ও ফার্মেসিগুলো যতদিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত না হচ্ছে ততদিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের হার কমানো সম্ভব নয়। অতএব, এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে এখনই, চোখ খুলতে হবে তাও এখনই...

মো মি ন মে হে দী র ক বি তা
অলস সময় আঁকি জো¯œার তুলিতে

একটা সময় ছিল আমার হাতে জোড়া চাঁদের ঘর বসতি।
চাঁদ আমার এই হাতের ছোঁয়ায় জো¯œা হতো; আমি হতাম
উদাস গাঁয়ের রাখাল মন। রোদ পোহানো ভোরকে দিতাম ছুটি।
আলোর সাথে সাথে মৈত্রী নিয়ে এঁকে যেতাম আদম সুরত সুখ।
সুখকে আমি আঁকতে পারি; শিল্পী সকাল আমার আলোয় রোজ হেসে যায় হাসি
আজ জোয়ারে গা ভাসিয়ে জলকে ভালোবাসি
এখন আমার আদরগুলো শুয়ে থাকে পা বিছানো রাত্রনারীর মত।
একলা এখন এলেবেলে খেলি; স্বপ্ন বুনি আমার খুশির খাসজমিতে একাই।
অলস সময় আঁকি জো¯œার তুলিতে তাও একলা লোভের টানে
এসব কথা কেউ না জানুক আমার আলো জানে...


ভুল
পৃথিবী তোমার উদার আকাশ বৃষ্টি নামায় কেন
দুঃখ আসে বলে? তাই যদি হয় একলা হাটার রঙধনুটা দেখতে পারো এসে।
আমার অনেক ভুল হয়ে যায় কারন আমি মানুষ; আমার আছে সে, কে?
প্রভু। আমার আনেক ভুল আছে
কারন, আমার প্রভু আছে।
প্রভুর কোন ভুল নেই; কারন, প্রভুর প্রভু নেই।
আমায় যদি সুযোগ দিত প্রভু হওয়ার কেউ
বইয়ে দিতাম প্রভুর ভুলে ঢেউ। প্রথম ভুলের অংক কষতে গেলে
ধরতাম সেই গন্ধম আর হাওয়ার নামতা মেলে।
এই নামতা
সেই নামতা
যেই নামতা
তার; আর ধারি না ধার...